মার্কিন সরকার আজ ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা প্রদান করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে বাধ্য করবে।
গত বছর, মার্কিন সরকার ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পদক্ষেপের পর, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে, ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে ৭ জানুয়ারি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে, আবেদনকারী ভিসা অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে। বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর প্রোফাইল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে, তবে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
অনুমোদনের পর, কনসুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে pay.gov সাইটের সরাসরি লিংকসহ বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা প্রদান করবেন। এই লিংকটি ভিসা ইন্টারভিউ শেষে প্রদান করা হয় এবং অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে বন্ড সম্পন্ন করা যায়।
প্রদত্ত ভিসা সর্বোচ্চ তিন মাসের মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং একবার প্রবেশের অনুমতি দেবে। ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বা অন্য কোনো শর্ত লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ।
বন্ড শর্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্ধারিত পোর্ট অব এন্ট্রি (প্রবেশদ্বার) ব্যবহার করা। বাংলাদেশি ভিসাধারীরা কেবল নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন; অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের ধারা প্রযোজ্য হবে।
যদি ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কাজ না করেন, তবে জমা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে ফেরত দেওয়া হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হতে পারে।
প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হল ভিসা মেয়াদ শেষের পর অবৈধভাবে অবস্থান করা (ওভারস্টে) ব্যক্তিদের সংখ্যা কমানো। মার্কিন সরকার উল্লেখ করেছে যে, অতিরিক্ত ওভারস্টে রেটযুক্ত দেশগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দায়িত্বশীল ভ্রমণকে উৎসাহিত করা যায়।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান এবং কিউবা ইত্যাদি দেশগুলোও ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে। এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য একই শর্তে বন্ড ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার এই নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ভিসা প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে।
আবেদনকারীরা এখন থেকে নির্ধারিত শর্ত মেনে বন্ড জমা দিয়ে ভিসা পেতে পারবেন এবং নির্ধারিত পোর্ট অব এন্ট্রি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রোগ্রামের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্পর্কে আরও তথ্য মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।



