27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে

বাংলাদেশের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।

আইসিসি (ICC) কর্তৃক দেওয়া চূড়ান্ত অনুমোদন প্রত্যাখ্যানের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের ফলে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়া হয়, যাতে তারা শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ খেলার দাবি করে। এই দাবি আইসিসির বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের কাছে উপস্থাপিত হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের মূল কারণ ছিল ভারতীয় অংশে সম্ভাব্য হুমকি। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয় এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভেন্যু অদলবদলের সম্ভাবনা উত্থাপন করে। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবগুলোকে অগ্রাহ্য করে এবং টুর্নামেন্টের মূল কাঠামো বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

আইসিসির ডিসপিউট রেজিলিউশন কমিটি (Dispute Resolution Committee) তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আপিল করা হয়, কিন্তু কমিটি তার দাবিকে সমর্থন না করে। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান অটল থাকে এবং টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করা হয়। এই পদক্ষেপ টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণকারী তালিকায় পরিবর্তন আনে এবং স্কটল্যান্ডের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।

ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল এই সিদ্ধান্তকে “বিরাট ভুল” বলে সমালোচনা করেন। তিনি আইসিসির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভুলভাবে বুঝিয়েছে এবং স্কটল্যান্ডের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। মদন লাল আরও যুক্তি দেন, পাকিস্তান নেপথ্যে থেকে বাংলাদেশকে বাধ্য করেছে, যাতে তারা শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচের দাবি করে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়” বলে সমাপ্তি টানেন।

বাংলাদেশের প্রত্যাহার টুর্নামেন্টের গ্রুপ গঠন ও শিডিউলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে গ্রুপের ভারসাম্য পুনর্গঠন হতে পারে এবং অন্যান্য দলের ম্যাচের সূচি পুনর্বিন্যাসের দরকার পড়তে পারে। টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশগুলো এখন নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাণিজ্যিক স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপ হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শেডিউল ও টেলিভিশন চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরবর্তী সপ্তাহে টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশিত হবে, যেখানে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নতুন ম্যাচের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারিত হবে। আইসিসি টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা চালু করেছে।

বাংলাদেশের প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমন্বয়কে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তবে টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য—বিশ্বের সেরা টি‑টোয়েন্টি দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা—অবিকল থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments