মিনিয়াপলিস, মিনেসোটা – যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টরা জানুয়ারি মাসে দুইটি পৃথক অপারেশনে দুইজন আমেরিকান নাগরিককে গুলি করে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রথম ঘটনা ৭ জানুয়ারি রেনি গুডের গাড়িতে ঘটেছে, দ্বিতীয়টি ২৪ জানুয়ারি অ্যালেক্স প্রেট্টির সঙ্গে যুক্ত। উভয় ঘটনার পর সরকার স্বয়ংরক্ষার দাবি করে, তবে স্থানীয় ভিডিও প্রমাণ তা বিরোধিতা করে।
৭ জানুয়ারি রেনি গুড, ৩৭ বছর বয়সী, তার গাড়ি চালিয়ে ICE অফিসারকে আক্রমণ করার চেষ্টা করার অভিযোগে গুলি করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) দাবি করে যে অফিসার আত্মরক্ষার জন্য গুলি করেছে, কারণ গুড তাকে গাড়ি চালিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল।
তবে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ভিডিওতে গুডের গাড়ি ধীর গতিতে চলা এবং কোনো আক্রমণাত্মক চালনা না করা দেখা যায়, যা DHS-এর বিবৃতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। গুলির পর গুডের গাড়ি থেমে যায় এবং তিনি গুলি হওয়ার মুহূর্তে গাড়ি থেকে বের হন না।
২৪ জানুয়ারি অ্যালেক্স প্রেট্টি, ৩৭ বছর বয়সী, আরেকটি অপারেশনে গুলি হয়ে মারা যান। DHS আবার বলেছে যে প্রেট্টি হাতে বন্দুক নিয়ে এজেন্টদের কাছে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ করেছিল, ফলে এজেন্টরা গুলি চালায়।
স্থানীয় ভিডিওতে দেখা যায় প্রেট্টি ফোনে কথা বলছে এবং তার হাতে আইনসঙ্গতভাবে বহন করা বন্দুক রয়েছে। মিনিয়াপলিস পুলিশ চিফ ব্রায়ান ও’হারা উল্লেখ করেছেন যে প্রেট্টি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারীদের সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, যখন এজেন্টরা তাকে মাটিতে ঠেলে দেয়।
মিনেসোটা রাজ্যের ব্যবহার-শক্তি সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, পুলিশকে শুধুমাত্র তখনই প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করতে অনুমতি দেওয়া হয় যখন যুক্তিসঙ্গতভাবে তারা নিজেদের বা অন্যদের মৃত্যুর হুমকি থেকে রক্ষা পেতে পারে।
ফেডারেল আইনেও অনুরূপ মানদণ্ড রয়েছে; একটি যুক্তিসঙ্গত এজেন্টকে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর বা গুরুতর আঘাতের হুমকি অনুভব করলে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
এই মানদণ্ডে ‘সম্ভাব্য কারণ’ এবং ‘যৌক্তিক বিশ্বাস’ গুরুত্বপূর্ণ, যা গুলির সময় পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
ফেডারেল এজেন্টদের সাধারণত কাজের সময় আইনি সুরক্ষা (ইমিউনিটি) প্রদান করা হয়, তবে স্ব-রক্ষা বা অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ করা সম্ভব।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং অফিস অফ ইনস্পেক্টর জেনারেল উভয়ই ঘটনাগুলোর উপর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করছে।
মিনিয়াপলিসের স্থানীয় কর্মকর্তারা DHS-এর স্ব-রক্ষা দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে, কারণ তারা ভিডিওতে দেখা স্পষ্ট বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করে।
গুলির পর এলাকায় প্রতিবাদকারীদের উপর তীর গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এজেন্টরা আইনগত মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে, তবে ফেডারেল আদালতে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে এধরনের মামলায় ফেডারেল সিভিল রিটেনশন আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনাগুলি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে গৃহীত কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, দুইটি গুলিবর্ষণ ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রমাণ আইনি বিশ্লেষণকে জটিল করে তুলেছে; তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য আদালত প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



