মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী দশকের শেষের দিকে ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট F-47 চালু করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এই বিমানকে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাভোসে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের সেশনে উল্লেখ করেন, “এটি F-47, নামটি যদি আমার পছন্দ না হয় তবে আমি নম্বরটি পরিবর্তন করব”। তিনি বিমানটির নামের পেছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কেন ৪৭ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি F-47‑এর ক্ষমতা সম্পর্কে বিশদে কথা বলেননি, তবে নামকরণের বিষয়ে তার আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।
F-47 একটি ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার, যা উন্নত রাডার-অবশোষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। বিমানের মধ্যে একীভূত সেন্সর সিস্টেম রয়েছে, যা পাইলটকে লক্ষ্যবস্তু দ্রুত শনাক্ত করতে এবং সঠিকভাবে আক্রমণ করতে সহায়তা করে। ককপিটের নিকটবর্তী ছোট ডানা, যাকে ক্যানার্ড ডিজাইন বলা হয়, স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে এবং তীক্ষ্ণ বাঁক ও জটিল ম্যানুভার সম্পাদনে সক্ষমতা প্রদান করে।
বিমানটি দীর্ঘ-পাল্লার মিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি, ঘনিষ্ঠ ডগফাইটের জন্যও পর্যাপ্ত চপলতা রয়েছে। F-47 স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে, যেগুলোকে Collaborative Combat Aircraft (CCA) বলা হয়, ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত আক্রমণ সম্ভব হয়।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে Boeing‑এর YF-118G Bird of Prey‑এর কিছু উপাদান গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষত, কোণাকৃতির ডানা এবং বাঁকানো নাকের আকার বায়ুগতিবিদ্যাকে উন্নত করে এবং উচ্চ গতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই নকশা উপাদানগুলো পূর্বের প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের তুলনায় অধিক থ্রাস্ট এবং দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা দেয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চ ২০২৫-এ Boeing‑কে F-47 নির্মাণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। চুক্তির আওতায় অন্তত ১৮৫টি বিমান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে এবং প্রথম সিরিজের বিমানগুলো দশকের শেষের দিকে কার্যকরভাবে সেবা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ভবিষ্যৎ সংঘাতে আকাশে আধিপত্য বজায় রাখা, বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চমাত্রার উত্তেজনা মোকাবেলায়। উন্নত স্টেলথ ক্ষমতা, বহুমুখী অস্ত্র সিস্টেম এবং স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে সমন্বয় ক্ষমতা F-47‑কে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন সামরিক বাহিনী F-47‑কে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে এবং এটি আগামী দশকে আকাশের আধিপত্যের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে। এই উদ্যোগটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং কৌশলগত নিরাপত্তা উভয় দিকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



