20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরসিংদীর গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে ২৫‑বছরীয় চঞ্চল ভৌমিকের মৃত্যু

নরসিংদীর গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে ২৫‑বছরীয় চঞ্চল ভৌমিকের মৃত্যু

নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দগরিয়া এলাকায় গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ বছর বয়সী চঞ্চল ভৌমিকের দেহ পুড়ে পুড়িয়ে মারা গেছেন। ঘটনাটি গত শনিবার ভোরে ঘটেছে এবং একই দিনে দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের মতে, দেহটি গ্যারেজের ভিতরে পুড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; তবে দেহের অংশগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। দেহ উদ্ধার করার পর স্থানটি সুরক্ষিত করা হয় এবং তদন্তের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা শুরু হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা’ হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে অফিসিয়াল সূত্রে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি যে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা।

চঞ্চল ভৌমিক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রাম, খোকন ভৌমিকের ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে পিতার মৃত্যু বরণ করেন; বর্তমানে তার মা ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাই উজ্জ্বল ভৌমিকের সঙ্গে বাস করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে তিনি পরিবারের জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রায় সাত বছর ধরে তিনি রুবেলের গ্যারেজে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলেন। গ্যারেজটি ঢাকা‑সিলেট মহাসড়কের দগরিয়ার পাশে তিনটি টিনশেডের মাঝের অংশে অবস্থিত, দুই পাশে গাড়ি রং করা ও পার্টস বিক্রির দোকান রয়েছে।

গত শুক্রবার ভোরে গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়, তবে পার্শ্ববর্তী দুইটি দোকানে কোনো অগ্নি চিহ্ন দেখা যায়নি। গ্যারেজের ভিতরে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যা সম্ভবত আগুনের সূত্রপাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

চঞ্চলের সহকর্মী ও আত্মীয়স্বজন ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা দাবি করেন যে, গ্যারেজের মালিকও যদি পরিকল্পিত না হয় তবু এটি হত্যাকাণ্ডের মতোই মনে করছেন এবং তদন্তের শেষে পুলিশকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে কী ঘটেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি গ্যাস, পেট্রল বা অন্যান্য দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি যাচাই করছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা দায়ী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকার করছেন। তারা বলেন, গ্যারেজে কাজের সময় অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা কম এবং পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো আইনগত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্যারেজের ভিতরে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতার কাজের সময় কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা যন্ত্রপাতির ত্রুটি ঘটেছে কিনা, তা তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্যাস লাইন বা পেট্রল ট্যাঙ্কের লিকের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

পাশের দুইটি টিনশেডের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের কোনো চিহ্ন না থাকায়, আগুনের বিস্তার সীমিত ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে গ্যারেজের কাঠামো ও উপকরণ সহজে দাহ্য হওয়ায় দেহের সম্পূর্ণ ধ্বংস ঘটেছে।

পুলিশের বর্তমান অবস্থান হল, ঘটনাটিকে এখনও হিংসাত্মক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি; তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী তা হতো বা না হতো, তা নির্ধারণ করা হবে।

অধিক তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গ্যাস ও পেট্রল নমুনা পরীক্ষা এবং গ্যারেজের নিরাপত্তা রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে এবং তারা পুলিশকে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গ্যারেজের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার দাবি করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments