প্রাক্তন বিসিসিআই (বিসিসিআই) সভাপতি আই.এস. বিন্দ্রা আজ ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার অকাল প্রয়াণ ক্রীড়া জগতে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিন্দ্রা ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় (আইএএস) ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তিনি বহু সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাজেট বিভাগে কাজ করা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে তার প্রবেশের সূচনা হয় ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে, যখন তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনি বিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিন্দ্রা বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন সময়ে টেলিভিশন সম্প্রচার অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা ভারতীয় ক্রিকেটের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তার নেতৃত্বে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচি পুনর্গঠন করা হয়, ফলে খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
বিন্দ্রা ১৯৯৯ থেকে ২০০০ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গ্লোবাল রূপান্তরে অবদান রাখেন, বিশেষ করে টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটের সমন্বয় এবং নতুন সদস্য দেশের অন্তর্ভুক্তি।
বিসিসিআই তার মৃত্যুর পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তিনি বিন্দ্রার ক্রীড়া প্রশাসনে অমলিন অবদানকে স্মরণ করেন এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিন্দ্রা ক্রিকেটের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি আজও আমাদের নীতিতে প্রতিফলিত হয়।”
ক্রীড়া বিশ্লেষক ও প্রাক্তন খেলোয়াড়দের মন্তব্যে দেখা যায়, বিন্দ্রার নেতৃত্বে বিসিসিআইয়ের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি টিকিট বিক্রয়, স্পনসরশিপ এবং মিডিয়া রিলেশনস ক্ষেত্রে নতুন নীতি প্রয়োগ করে সংগঠনের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটিয়েছিলেন।
বিন্দ্রা তার কর্মজীবনে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন, যার মধ্যে ভারতের সিভিল সেবা ক্ষেত্রে সম্মানজনক পদক অন্তর্ভুক্ত। তার অবদান কেবল প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে ক্রিকেটের গ্লোবাল উন্নয়নে প্রভাব ফেলেছে।
তার পরিবারে স্ত্রী, দুই সন্তান এবং নাতি-নাতনি রয়েছে। পরিবারগত সূত্রে জানা যায়, তিনি পরিবারকে খুবই মূল্য দিতেন এবং অবসর জীবনে ঘরে বসে বই পড়া ও বাগান করা উপভোগ করতেন।
বিন্দ্রার মৃত্যু ক্রীড়া জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে, তবে তার নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে রয়ে যাবে। তার অবদানকে স্মরণ করে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা আগামী কয়েক দিনে শোকসূচক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।
বিসিসিআই আগামী সপ্তাহে একটি স্মারক সভা আয়োজনের কথা জানিয়েছে, যেখানে বিন্দ্রার পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো পুনরায় স্মরণ করা হবে। এই সভায় তার সহকর্মী ও ক্রীড়া প্রশাসকরা অংশগ্রহণ করবেন।
বিন্দ্রার মৃত্যুর পর ক্রীড়া জগতে তার নামের সঙ্গে যুক্ত নীতি ও সংস্কারগুলো পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত টেলিভিশন অধিকার ও স্পনসরশিপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের কথা বলা হচ্ছে।
বিন্দ্রার জীবন ও কর্মের স্মৃতি ক্রীড়া প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, এটাই সকলের সম্মতিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।



