অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ ও নারী একক প্রতিযোগিতার তৃতীয় রাউন্ডে, আমেরিকান টেনিসার জেসিকা পেগুলা রড লেভার আরেনায় ৬-৩, ৬-৪ স্কোরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মাডিসন কীসকে পরাজিত করে কোয়ার্টারফাইনালে স্থান নিশ্চিত করেন। এই জয়টি সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এবং পেগুলার ছয় নম্বর সীড অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
পেগুলা, ছয় নম্বর সীড, পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখেন। প্রথম সেটে ৬-৩, দ্বিতীয় সেটে ৬-৪ স্কোরে কীসকে হারিয়ে তিনি কোয়ার্টারফাইনালে পৌঁছান। রড লেভার আরেনা, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রধান কোর্ট, এই সব-আমেরিকান মুখোমুখি দৃশ্যের সাক্ষী হয়।
পেগুলা প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জনের লক্ষ্যে আছেন। ২০২৪ ইউএস ওপেন ফাইনালে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি এই স্বপ্নকে তাড়া করছেন। ২০২১‑২০২৩ পর্যন্ত মেলবোর্নে ধারাবাহিকভাবে কোয়ার্টারফাইনালে গেছেন, তবে সেমিফাইনালে কখনো অগ্রসর হননি। এই জয় তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়ায়।
কোর্টের বাইরে পেগুলা ও কীসের বন্ধুত্বও নজরে এসেছে। দুজনই ‘দ্য প্লেয়ারস বক্স’ নামের পডকাস্টে একসাথে উপস্থিত হন, যেখানে সহ-অ্যামেরিকান ডেসিরা ক্রাওচিক এবং জেনিফার ব্র্যাডি অংশ নেন। এই পারস্পরিক সম্পর্কের পরেও পেগুলা কোর্টে দৃঢ় মনোভাব বজায় রাখেন এবং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন।
ম্যাচে কীসের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তিনি ২৭টি অনিয়ন্ত্রিত ত্রুটি করেন, যেখানে পেগুলা মাত্র ১৭টি ত্রুটি করেন। তাছাড়া কীস ছয়টি ডাবল ফল্টও করেন, যা তার সার্ভিস গেমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে কীসের গেমে ধারাবাহিকতা ও নির্ভুলতা কমে গিয়েছিল।
পেগুলা ম্যাচের পর নিজের খেলা নিয়ে মন্তব্য করেন যে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে বলকে ভালোভাবে দেখতে এবং আঘাত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, সার্ভিসে মনোযোগ দিয়ে দ্বিতীয় সার্ভে কিছু ঝুঁকি নেওয়া এবং গতি পরিবর্তন করা তার জয় নিশ্চিত করেছে। তার চারটি ম্যাচে মোট ১৭ গেমই হারিয়ে না থাকায় তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে।
প্রথম গেমে পেগুলা ‘সার্ভ টু লাভ’ দিয়ে শুরু করেন এবং দ্রুত দুইটি ব্রেক পয়েন্ট অর্জন করেন। কীসের প্রথম ফোরহ্যান্ড নেটের দিকে গিয়ে ভুলে যাওয়ায় পেগুলা ২-০ লিড নেন। এরপর পেগুলা ধারাবাহিকভাবে সার্ভিস ধরে রাখেন, ফলে প্রথম সেটে কীস মাত্র তিনটি পয়েন্টই সংগ্রহ করতে পারেন। এই প্রাথমিক আধিপত্য পেগুলার গেমের টেম্পো নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয় সেটে কীস কিছুটা ফিরে আসার চেষ্টা করেন এবং একবার সার্ভিস ধরে রাখে, তবে তার শটগুলোতে এখনও ত্রুটি দেখা যায়, যেমন বেসলাইনকে প্রায় ছুঁয়ে যাওয়া সার্ভ এবং ভুল শ্যাঙ্কড ভলিতে। এই ত্রুটিগুলো তাকে একবার ব্রেক পয়েন্ট দেয়, তবে পেগুলা দ্রুত পুনরায় ব্রেক করে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শেষ করে।
কোয়ার্টারফাইনালে পেগুলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ সীড আমান্ডা অ্যানিসিমোভা অথবা চীনের ওয়াং শিনিউয়ের মুখোমুখি হবেন। উভয় প্রতিপক্ষই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, ফলে পেগুলার পরবর্তী ম্যাচটি তীব্র প্রতিযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ম্যাচের পর পেগুলা ৪টি ম্যাচে মাত্র ১৭ গেম হারিয়ে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং এখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। কীসের জন্য এই পরাজয় তার ক্যারিয়ারে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, তবে দুজনের বন্ধুত্ব ও পডকাস্ট সহযোগিতা কোর্টের বাইরে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যায়।



