দক্ষিণ ফিলিপাইনের জম্বোয়াঙ্গা শহরের কাছাকাছি একটি ফেরি ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ২৮ জন এখনও অজানা। ৩৫০ টিরও বেশি যাত্রী বহনকারী MV ট্রিশা কেরস্টিন ৩ সোমবার প্রাতঃকালীন সময়ে ডুবে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।
ফেরি প্রায় ১:৫০ এএম (১৭৫০ জিএমটি) সময়ে সংকেত পাঠায়, যা তার জম্বোয়াঙ্গা শহরের বন্দর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা পরের ঘটনা। এই সময়ে জাহাজটি মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার রোমেল দুয়া জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩১৬ জনকে নিরাপদে তোলা হয়েছে, তবে ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং ২৮ জনের অবস্থান অজানা রয়ে গেছে। উদ্ধারকাজে কোস্ট গার্ডের বিমান, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সম্পদ যুক্ত হয়েছে।
বেসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে জাহাজটি ডুবে যায়। এই অঞ্চলটি জম্বোয়াঙ্গা উপদ্বীপের নিকটবর্তী এবং প্রায়ই স্থানীয় নৌচালনা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয় জরুরি সেবা কর্মী রোনালিন পেরেজ উল্লেখ করেন, বেঁচে থাকা যাত্রীদের সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মে চাপ বাড়ছে। বর্তমানে কর্মীসংখ্যা কম থাকায় রোগী সেবা কঠিন হয়ে পড়েছে; অন্তত ১৮ জনকে নিকটস্থ এক হাসপাতালতে ভর্তি করা হয়েছে।
ফেরিটি জম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে জোলো দ্বীপের দিকে যাত্রা করছিল যখন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ডুবে যাওয়ার সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি; কোস্ট গার্ড একটি সামুদ্রিক দুর্ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রধান লক্ষ্য হল বেঁচে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে স্থানান্তর করা।
বেঁচে থাকা যাত্রীদের জম্বোয়াঙ্গা ও ইসাবেলা সিটিতে অবস্থিত কোস্ট গার্ড স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের প্রকাশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাজটি অতিরিক্ত লোডেড ছিল না।
ফিলিপাইনের জনসংখ্যা প্রায় ১১৬ মিলিয়ন, এবং দেশের ৭,০০০ টিরও বেশি দ্বীপের মধ্যে সংযোগের জন্য সস্তা ও কম নিয়ন্ত্রিত ফেরি ও নৌকা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।
গত বছর ২০২৩-এ দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে ৩০ টিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এই ঘটনা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে, এই ধরনের ঘটনার ফলে ASEAN সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা ও নিয়মকানুন শক্তিশালী করার আহ্বান তীব্রতর হয়েছে। এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, ফিলিপাইনের বর্তমান অবস্থা সমগ্র অঞ্চলের নৌপরিবহনের মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
ফিলিপাইনের সরকার এই দুর্ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা মান পুনর্বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শীঘ্রই ASEAN পরিবহন মন্ত্রিসভার সভায় এই বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোও ফিলিপাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এখনো বেঁচে থাকা যাত্রীদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা অনিশ্চিত অবস্থায় অপেক্ষা করছেন, আর উদ্ধারকর্মীরা বেঁচে থাকা লোকজনকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



