২৫ জানুয়ারি রবিবার তামিলনাড়ুর মামল্লপুরম (মহাবালিপুরম) এলাকায় টিভিকে-র বিশাল সমাবেশে থালাপতি বিজয় উপস্থিত হয়ে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে পুনরায় দৃঢ় করে। তিনি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলীয় কর্মীদের সামনে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল টিভিকে-কে নির্বাচনী মঞ্চে শক্তিশালী করে তোলা এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন অর্জন করা।
বিজয় তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক চাপের সামনে তিনি মাথা নত করবেন না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পূর্বে তার চলচ্চিত্র ‘জন নায়গান’ মুক্তির পর যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর করে পুরো মনোযোগ রাজনীতিতে কেন্দ্রীভূত করার সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করা তার নীতি বিরোধী এবং তা কখনোই ঘটবে না।
সমাবেশে বিজয় তামিলনাড়ু রাজ্যের দুই প্রধান দল, অল ইন্ডিয়া অন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (AIADMK) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (DMK) কে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, এই দুই দল রাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে এবং তাদের কাজের ফলে টিভিকে-র স্বতন্ত্রতা হুমকির মুখে পড়েছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজয় টিভিকে-র কর্মীদেরকে ‘গণতান্ত্রিক লড়াই’র প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। তিনি দলীয় সদস্যদেরকে ‘কমান্ডার’ হিসেবে কাজ করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহিত করেন। তার মতে, টিভিকে-র শক্তি এখনো অশুভ ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন কাঠামোর বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা রাখে।
বিজয় আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান শাসনকারী ‘অশুভ শক্তি’ এবং পূর্বের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তি’র বিরোধিতা টিভিকে-র মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, টিভিকে-র সদস্যরা জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং মাটিকে ক্ষতি করতে চাওয়া কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। এই মিশনকে তিনি ‘রাজনৈতিক বিক্রি না করা’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চায়।
দুর্নীতির প্রশ্নে বিজয় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি পূর্বের বা বর্তমান শাসকদের মতো কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং এক পয়সাও স্পর্শ করবেন না। তার মতে, টিভিকে-র নীতি হল স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের দাগ না লাগতে দেওয়া।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে টিভিকে-র নতুন নির্বাচনী প্রতীক ‘শিস’ উন্মোচন করা হয়। এই প্রতীকটি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন দলকে বরাদ্দ করেছে এবং এটি টিভিকে-র রাজনৈতিক প্রচারণার নতুন চিহ্ন হিসেবে কাজ করবে। বিজয় শিসের শব্দে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করে, এটিকে দলীয় প্রচারণা ও কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শিসের উন্মোচন টিভিকে-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি এই প্রতীককে ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিভিকে-র কর্মীরা শিসের শব্দকে প্রতীকীভাবে ব্যবহার করে সমর্থকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, টিভিকে-র এই দৃঢ় অবস্থান এবং নতুন প্রতীক ব্যবহার ভোটারদের মধ্যে দলের প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যারা বর্তমান শাসনকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করেন। তবে AIADMK ও DMK-র নেতৃত্বের কাছ থেকে এই অভিযোগের প্রতি কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যতে টিভিকে-র নির্বাচনী কৌশল কীভাবে গড়ে উঠবে এবং শিসের প্রতীক কতটা প্রভাবশালী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে স্পষ্ট যে, থালাপতি বিজয় রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার প্রতিজ্ঞা দিয়ে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন।



