পল ফিগের পরিচালিত ‘দ্য হাউসমেড’ ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ৩০০ মিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের একই নামের বেস্টসেলিং উপন্যাসের ভিত্তিতে তৈরি এই রেটেড থ্রিলারটি ইউনিভার্সাল স্টুডিওসের অধীনে মুক্তি পায়। প্রধান ভূমিকায় সিডনি সুইনি, আমান্ডা সেয়ফ্রেড এবং ব্র্যান্ডন স্ক্লেনার অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়।
প্রথম সপ্তাহে ১২০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পর, ছবিটি দ্রুতই ২০৮ মিলিয়ন ডলারের ‘এনিওয়ান বাট ইউ’কে ছাড়িয়ে সিডনি সুইনির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় অর্জন করে। একই সময়ে ২০২৫ সালের বহু প্রত্যাশিত ছবি, যেমন ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’, এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করেছে। মোট আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা এই শৈলীর জন্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বড় শহরগুলোতে টিকিট বিক্রি দ্রুত বাড়ে, যা মোট আয়কে ত্বরান্বিত করে।
ছুটির মরসুমের আগমনে হলিউডের বেশিরভাগ দৃষ্টি অন্য প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত ছিল, তবে সিডনি সুইনির আমেরিকান ঈগল জিন্স বিজ্ঞাপন নিয়ে সৃষ্ট সামাজিক বিতর্ক কিছুটা মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। তবুও ‘দ্য হাউসমেড’ দ্রুতই দর্শকদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে এবং তার পর্দার উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবির সাফল্য সিডনি সুইনির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রচারাভিযানটি সামাজিক মিডিয়া এবং টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যা তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে।
অনেক বিশ্লেষক দাবি করেন যে মাঝারি বাজেটের, বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি চলচ্চিত্রগুলো এখন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বেশি সফল হবে। তবে পল ফিগ এই ধারণার কঠোর বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে নারীরা এখনও সিনেমা হলের আসনে উপস্থিত থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে ‘দ্য হাউসমেড’ এর মতো রেটেড থ্রিলারগুলোতে দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। স্ট্রিমিং সেবাগুলো যদিও একই ধরণের কন্টেন্টে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, ফিগের মতে সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা এখনও অপ্রতিস্থাপিত।
‘দ্য হাউসমেড’ এর উৎপাদন খরচ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে এই বিনিয়োগের ওপর থেকে প্রাপ্ত আয় প্রায় ছয় গুণের বেশি, যা ফিগের জন্য আর্থিক দিক থেকে বড় বিজয়। ছবির সাফল্য তার ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে সমজাতীয় প্রকল্পের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। লাভের মার্জিন প্রায় ৬০০ শতাংশে পৌঁছায়, যা একই বাজেটের অন্যান্য চলচ্চিত্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
প্রায় পনেরো বছর আগে ফিগ ‘ব্রাইডসমেডস’ নামে একটি রেটেড কমেডি তৈরি করে নারীর কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। সেই সময়ে তিনি শৈলীর সীমানা প্রসারিত করে পুরোপুরি নারীদের ওপর ভিত্তি করে একটি সফল ফিল্ম তৈরি করেন, যা বক্স অফিসে শীর্ষ দশে স্থান পায়। এই সাফল্য তাকে শিল্পের মধ্যে একটি বিশেষ স্থান প্রদান করে। সমালোচকরা ছবির হিউম্যান ড্রামা এবং তীব্র থ্রিলার উপাদানকে প্রশংসা করেন, যদিও কিছু মন্তব্যে রেটিং নিয়ে আলোচনা হয়।
‘দ্য হাউসমেড’ এই বছর ইউনিভার্সালের শীর্ষ ১২টি বক্স অফিসের মধ্যে দ্বাদশ স্থানে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ (২৫০ মিলিয়ন ডলার) কে ছাড়িয়ে গেছে। এই রেকর্ড ফিগের কাজের ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের পরিবর্তিত পছন্দের প্রতিফলন। ছবির সাফল্য শিল্পের মধ্যে নারীর গল্পকে পুনরায় গুরুত্ব দেয়। ফিগ এই সাফল্যকে ভিত্তি করে পরবর্তী বছরেও নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন গল্প তৈরি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
ব্রাইডসমেডসের পর ফিগ মেলিসা ম্যাককার্থির সঙ্গে কাজ করে ‘দ্য হিট’ (২০১৩) এবং ‘স্পাই!’ (২০১৫) মতো হিট চলচ্চিত্র তৈরি করেন। এই চলচ্চিত্রগুলোও বক্স অফিসে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং ফিগের নামকে আরও শক্তিশালী করেছে। ‘দ্য হিট’ ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ‘স্পাই!’ ৯০ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা ফিগের ধারাবাহিক সাফল্যকে দৃঢ় করে। তার ক্যারিয়ার এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শৈলীর মিশ্রণে সমৃদ্ধ।
ফিগ প্রায়ই উল্লেখ করেন যে তিনি ক্যারিয়ারের বেশ কয়েকবার প্রমাণ করতে হয়েছে যে নারীরা সিনেমা হলে আসবে, যদিও কিছু সময়ে তা প্রত্যাশার চেয়ে



