কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবং জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের সময়সূচি একসাথে হওয়ায় উদ্ভূত বিরোধের পর দলটি সমাবেশের সময় পরিবর্তন করেছে। সমাবেশ এখন ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় হবে, পূর্বে নির্ধারিত ৩১ জানুয়ারি নয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, ভর্তি পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা জরুরি, তাই সমাবেশের সময়সূচি সংশোধন করা হয়েছে।
কুবি (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল। একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর টাউন হলের জনসভা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সমাবেশের সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল। তারা উল্লেখ করেছিল যে, দু’টি বড় ইভেন্ট একই সময়ে হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিভ্রান্ত হবে।
এই প্রতিক্রিয়ার পর জামায়াতের নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী সমাবেশটি ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন।
মাহবুবুর রহমানের মতে, এই সমন্বয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো বাধা না দেয়ার জন্য এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময়সূচি ও স্থান নির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সমন্বয় সাধন করে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, তাই তার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সমাবেশের সময় পরিবর্তনের ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দুইটি ইভেন্টের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতে পারবে। স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের মতে, একসাথে দুইটি বড় সমাবেশ পরিচালনা করা লজিস্টিক দৃষ্টিকোণ থেকে চ্যালেঞ্জিং।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সময়সূচি পরিবর্তন নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময়ে দলগুলোর সংগঠন ক্ষমতা ও জনমত সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে। তবে তারা কোনো অনুমান না করে কেবলমাত্র ঘটনার বাস্তব তথ্য উপস্থাপন করেন।
আগামী ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টাউন হলের মঞ্চে জামায়াতের নেতৃত্বের বক্তা উপস্থিত থাকবেন এবং নির্বাচনী এজেন্ডা, ধর্মীয় বিষয় ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। সমাবেশের সময়সূচি পরিবর্তন সত্ত্বেও অংশগ্রহণের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে অনুমান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল যাচাই করে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে। একই সময়ে জামায়াতের সমাবেশের ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
সংক্ষেপে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সময়সূচি পরিবর্তন ভর্তি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া একটি পদক্ষেপ, যা নিরাপত্তা ও নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয়কে সহজতর করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।
এই পরিবর্তন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সংগঠন দক্ষতা ও জনমত পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করবে। যদি সমাবেশটি নির্ধারিত সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, তবে দলটি ভোটারদের কাছে দায়িত্বশীলতা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করতে পারবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও ভবিষ্যতে এমনই সংঘাত এড়াতে ইভেন্ট পরিকল্পনা ও পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে বলে জানিয়েছে।



