কক্সবাজারের রামু থানার ৮নং ওয়ার্ড, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় একটি পুকুর ঘাটে প্রায় এক দশক আগে লোহার সিলিন্ডার আকৃতির বোমা সদৃশ বস্তু আবিষ্কৃত হয়। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অবিস্ফোরিত বোমা হতে পারে এবং পুকুরে পড়ে বিস্ফোরণ না হওয়ায় আজ পর্যন্ত অক্ষত রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বস্তুটির চারপাশে কাপড় ও চোপড় দিয়ে ধোঁয়ার কাজ করছিলেন, যা বস্তুটির উপস্থিতি সম্পর্কে অজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে গিয়েছিল।
বস্তুটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার পুকুর ঘাটে, যেখানে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক পুলিশকে জানায়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখে এবং আশেপাশে সংরক্ষণ করে নজরদারি বাড়ায়। পরবর্তীতে রামু থানার ওসি বস্তুটির তথ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রেরণ করেন, যাতে সঠিক নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেনাবাহিনীর দল বোমা সদৃশ বস্তুটির অবস্থা মূল্যায়ন করে, তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে বস্তুটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যাতে কোনো অনিচ্ছাকৃত বিস্ফোরণ রোধ করা যায়।
ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া জানান, তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া বহু বছর আগে এই বস্তুটি সম্পর্কে জানতেন। তাদের মতে, সিলিন্ডারের গঠন ও আকার জাপানের তৈরি অস্ত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অবিস্ফোরিত বোমা হতে পারে। শিরূপন বড়ুয়া উল্লেখ করেন, বস্তুটির দৈর্ঘ্য গ্যাস সিলিন্ডারের চেয়ে বেশী এবং পুরু লোহার গঠন রয়েছে, যা ঐ সময়ের সামরিক সরঞ্জামের বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে।
বস্তুটির প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও অনলাইন ব্যবহারকারীরা ছবির মাধ্যমে বস্তুটির অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন। কিছু মন্তব্যে বোমা সদৃশ বস্তুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান করা হয়, অন্যদিকে কিছু লোক ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া উল্লেখ করেন, বস্তুটি বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে সংরক্ষিত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয়করণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উর্ধতন মহলে নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক দিক থেকে যথাযথ গবেষণার সুযোগ দেবে। বর্তমান পর্যায়ে বস্তুটির সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়করণ ও নিরাপদ ধ্বংসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা বাকি, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



