ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে ২০ বছর বয়সী নাজমিন আক্তার মারা গেছেন। ঘটনা ঘটেছে রোববার রাত ৭:৫০ টার কাছাকাছি, যখন তিনি বাথরুমের দিকে গিয়ে এক মুহূর্তের মধ্যে নিচে পড়ে যান। নাজমিনের পরিবার জানান তিনি এক সপ্তাহ আগে কিডনি জটিলতা ও অন্যান্য রোগে ভর্তি ছিলেন।
নাজমিন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার কন্যা এবং চার মাসের শিশুর মা। তার রোগের ইতিহাসে কিডনি সমস্যার পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য করে। ভর্তি হওয়ার পর তিনি পরিবারকে জানিয়ে দেন যে তিনি শিশুটিকে দেখাশোনা করবেন এবং বাথরুমে যাবেন।
বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে তিনি নিচে লাফিয়ে পড়েন, ফলে গমগমে আঘাত পেয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধার করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাসপাতাল নিরাপত্তা কর্মীরা তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা সংস্থাকে জানিয়ে দেন।
হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর মনে হচ্ছে নাজমিন আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে লাফিয়ে পড়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে, যাতে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা যায়।
হাসপাতালের প্রশাসন ঘটনাটির পর দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করছে। ভবনের উচ্চ তলায় নিরাপত্তা রেল বা বাধা ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত চাওয়া হয়েছে।
কিডনি রোগের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগতে পারেন, যা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক যত্নের জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন অপরিহার্য। রোগীর আত্মহত্যা সন্দেহ হলে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও হটলাইন উপলব্ধ, যা জরুরি সময়ে সহায়তা প্রদান করে।
এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি যে, হাসপাতালের উচ্চ তলায় রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ বাধা বা রেল স্থাপন করা উচিত। এছাড়া, রোগীর মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে মানসিক পরামর্শ প্রদান করা উচিত।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন একসাথে করলে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে। সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হল এই দিকগুলোকে নীতি ও বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্ত করা।
অবশেষে, রোগী ও তাদের পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সমর্থন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



