সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউ.এস. ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত ‘Soul Patrol’ চলচ্চিত্রটি জে.এম. হার্পার পরিচালিত একটি নন-ফিকশন ডকুমেন্টারি, যার সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট। ছবিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সেবা করা ছয়জন কালো সৈন্যের অভিজ্ঞতা অনুসন্ধান করে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিশাল কাহিনীর মধ্যে এই দলটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা কেবল সামরিক মিশনে নয়, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলমান ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই সময়ের সামাজিক অশান্তি এবং যুদ্ধের কষ্টকে একসঙ্গে তুলে ধরতে ছবিটি প্রচেষ্টা করেছে।
জে.এম. হার্পার পূর্বে ‘As We Speak’ শিরোনামের ডকুমেন্টারি তৈরি করে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। ‘Soul Patrol’ তার দ্বিতীয় দীর্ঘদৈর্ঘ্য প্রকল্প, যেখানে তিনি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে স্ক্রিপ্টেড উপাদান মিশ্রণ করে একটি স্বতন্ত্র বর্ণনা গড়ে তুলেছেন।
চিত্রের মূল অনুপ্রেরণা আসে কম্পটনের বাসিন্দা এড ইমানুয়েলের ২০০৩ সালের স্মৃতিকথা থেকে, যার শিরোনামই ছবির নামের ভিত্তি। ইমানুয়েল তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বছরের সেবার ভয়াবহ স্মৃতি থেকে মুক্তি পেতে এই স্মৃতিকথা রচনা করেন।
ইমানুয়েল এবং তার সহযোদ্ধারা ‘Team 2/6’ নামে পরিচিত, যা কোম্পানি এফ, ৫১তম ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের একটি ছোট দল। তাদের বয়স বেশী না, কেউ কেউ কিশোর বয়সেই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়, ফলে শৈশবের কষ্ট ও যুদ্ধের কষ্ট একসঙ্গে বহন করতে হয়।
দলটি যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক মিশনগুলো সম্পন্ন করেছিল, যার মধ্যে গোপন অপারেশন এবং শত্রু অবস্থানে সরবরাহ পৌঁছানো অন্তর্ভুক্ত। এই মিশনগুলোতে তাদের সাহসিকতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যুদ্ধের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের মতোই একটি সামাজিক সংগ্রামেও অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেকে দেখেছিল। এক সৈন্যের মন্তব্যে “আসল যুদ্ধ” শব্দটি ব্যবহার করে তিনি ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলনকে যুদ্ধের সমান্তরাল হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ছবিতে পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
‘Soul Patrol’ এ দলটির বেঁচে থাকা সদস্যদের জন্য একটি ব্ল্যাক-টাই রিইউনিয়ন দৃশ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সমাবেশে পুরনো বন্ধুত্বের পুনর্জীবন এবং অতীতের কষ্টের ভাগাভাগি দেখা যায়, যা দর্শকদের জন্য আবেগময় মুহূর্ত তৈরি করে।
চিত্রটি একটি রাউন্ডটেবিল আলোচনা সমৃদ্ধ, যেখানে বেঁচে থাকা সৈন্যরা ক্যামেরার সামনে বসে তাদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং যুদ্ধের পরবর্তী জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। এই সংলাপগুলো সরাসরি এবং অন্তরঙ্গ, যা দর্শকের কাছে সত্যিকারের মানবিক দিকটি প্রকাশ করে।
দৃশ্যমান দিক থেকে ছবিটি চমৎকার ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে, যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ এবং সৈন্যদের মুখের অভিব্যক্তি উভয়ই সূক্ষ্মভাবে ধারণ করেছে। হালকা সঙ্গীত এবং শ্বাসরুদ্ধকর শটের সমন্বয় ছবিটিকে গভীর অনুভূতি প্রদান করে।
সানডান্সে প্রদর্শিত হওয়ার পর ‘Soul Patrol’ ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পায় এবং সমালোচকরা এর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে প্রশংসা করে। ছবিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, বিশেষ করে কালো সৈন্যদের অবহেলিত গল্পকে আলোকিত করে।
সামগ্রিকভাবে, ‘Soul Patrol’ একটি সম্মানজনক স্মৃতিচারণ এবং যুদ্ধের মানবিক দিকের অনুসন্ধান, যা দর্শকদের ইতিহাসের গভীর স্তরে নিয়ে যায় এবং একই সঙ্গে বর্তমানের সামাজিক ন্যায়বিচার প্রশ্নকে উত্থাপন করে।



