সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রামাটিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ‘দ্য মিউজিক্যাল’ চলচ্চিত্রটি মধ্যম বিদ্যালয়ের নাট্যশিক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা ও প্রতিশোধের কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত। গিসেল বোনিলা পরিচালিত এই কাজটি অস্ট্রেলিয়ান লেখক আলেকজান্ডার হেলারের স্ক্রিপ্টে ভিত্তিক, যেখানে উইল ব্রিল, গিলিয়ান জ্যাকবস এবং রব লোয়ের অভিনয় দেখা যায়। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা চব্বিশ মিনিট, এবং এটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে সান্ডান্সের মূল মঞ্চে উপস্থাপিত হয়।
কাহিনীর মূল চরিত্র হলেন এক নাট্যশিক্ষক, যিনি নিজের প্রেমিকাকে প্রধান শিক্ষক ও তার বসের সঙ্গে হারিয়ে ফেলেন। এই ব্যর্থতা তাকে নাটকের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের পরিকল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষকটি তার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি নাট্যপ্রদর্শনী গড়ে তোলার মাধ্যমে স্কুলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোকে উন্মোচন করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত নাটকীয় মোড় নেয়।
গিসেল বোনিলা প্রথমবারের মতো পরিচালক হিসেবে এই চলচ্চিত্রে দায়িত্ব নেন, আর আলেকজান্ডার হেলারের লিখিত স্ক্রিপ্টটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্ধকার দিকগুলোকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছে। উইল ব্রিল ডগ নামের চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি নাট্যশিক্ষকের ভূমিকায় আত্মবিশ্বাসী ও তীব্র স্বভাবের অধিকারী। গিলিয়ান জ্যাকবস এবং রব লোওয়েও যথাক্রমে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিত, যা ছবির চরিত্রগত সমৃদ্ধি বাড়ায়।
সান্ডান্সের এই বছরকার ড্রামাটিক প্রতিযোগিতায় ‘দ্য মিউজিক্যাল’ একটি অপ্রচলিত ডার্ক কমেডি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে ফেস্টিভ্যালের শেষের দিকে, যখন চলচ্চিত্রের নির্মাতারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন এই ধরনের পুরোনো ধাঁচের গল্পের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চলচ্চিত্রের মূল থিম—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোপন অন্ধকার দিককে নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করা—একটি পুরনো রূপকথা, যা পূর্বের দশকের চলচ্চিত্রে বহুবার দেখা গেছে।
চিত্রনাট্যটি আধুনিক সমাজের সমস্যাগুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার চেয়ে অতীতের স্যাটায়ার শৈলীর উপর নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীর ভোটের মতো বিষয়গুলোকে নাট্যিক কাহিনীতে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, যদিও সৃজনশীল, তবু বর্তমান সময়ের দর্শকের জন্য তাজা নয়। এই দিক থেকে চলচ্চিত্রের স্যাটায়ার ও উপহাসের পদ্ধতি পুরনো ধাঁচের, যা আজকের তরুণ দর্শকের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অভিনয় ক্ষেত্রে, উইল ব্রিলের পারফরম্যান্স যথেষ্ট শক্তিশালী, তিনি চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম। গিলিয়ান জ্যাকবসের উপস্থিতি দৃশ্যকে কিছুটা হালকা করে, তবে রব লোয়ের চরিত্রে কিছুটা অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখা যায়, যা সামগ্রিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে। যদিও অভিনেতারা তাদের ভূমিকায় যথাযথ পরিশ্রম করেছেন, তবে স্ক্রিপ্টের ভারী গঠন তাদের কাজকে যথাযথভাবে উজ্জ্বল করতে বাধা দেয়।
চিত্রের গতি ও রিদমের ক্ষেত্রে, দীর্ঘমেয়াদী স্ক্রিপ্টের কারণে কিছু অংশে ধীরগতি দেখা যায়। নাট্যিক উপাদানগুলোকে তীব্রভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টায়, কিছু দৃশ্য অতিরিক্ত নাটকীয় হয়ে ওঠে, যা দর্শকের মনোযোগকে বিচ্ছিন্ন করে। তবু মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত প্লট টুইস্ট এবং তীক্ষ্ণ হাস্যরসের ছোঁয়া চলচ্চিত্রকে কিছুটা বাঁচিয়ে রাখে।
সামগ্রিকভাবে, ‘দ্য মিউজিক্যাল’ একটি প্রচেষ্টা যা পুরনো শৈলীর স্যাটায়ারকে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশে প্রয়োগ করতে চেয়েছে, তবে স্ক্রিপ্টের পুরনো ধাঁচের কারণে তা প্রত্যাশিত প্রভাব অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। চলচ্চিত্রটি কিছু হাস্যকর মুহূর্ত এবং শক্তিশালী অভিনয় উপস্থাপন করলেও, মূল গল্পের কাঠামো ও সংলাপের পুরনো রূপকথা দর্শকের কাছে তাজা নয়।
ফলস্বরূপ, এই চলচ্চিত্রটি শিক্ষকের জীবনের অন্ধকার দিককে নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করার একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে চেয়েছে, তবে বাস্তবে তা পুরনো ধারার পুনরাবৃত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে একই ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক নির্মাতাদের জন্য স্ক্রিপ্টের আধুনিকীকরণ ও চরিত্রের গভীরতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে, ‘দ্য মিউজিক্যাল’ সান্ডান্সের অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি মাঝারি মানের কাজ হিসেবে বিবেচিত, যা দর্শকের কাছ থেকে তীব্র প্রশংসা পেতে পারবে না।



