গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজারে রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশের একটি দল জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে তার বাসায় পৌঁছায়। গ্রেফতার প্রচেষ্টার সময় চারজন পুলিশ সদস্যকে গৃহস্থ লোকজনের আক্রমণ থেকে মারধর করা হয় এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
অভিযুক্ত দলের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ‑পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মীর কায়েস, এসআই সেলিম রেজা, এসআই মমিনুল ইসলাম এবং কনস্টেবল হোসেইন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা গৃহে প্রবেশের পর গোলাপের সমর্থকদের দ্বারা ঘেরাও করে, শারীরিক আক্রমণের শিকার হন এবং তাদের চালিত তিনটি মোটরসাইকেলও ধ্বংস করা হয়।
ঘটনা ঘটার সময় রাতের অর্ধরাতের কাছাকাছি, বাগদা বাজারের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গৃহে প্রবেশ করা পুলিশ সদস্যদের গৃহস্থ লোকজন বাধা দিয়ে তীব্রভাবে আঘাত করে। আক্রমণের ফলে মীর কায়েস, সেলিম রেজা, মমিনুল ইসলাম এবং হোসেইন সহ চারজনই আঘাতপ্রাপ্ত হন, যার মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর বলে রেকর্ড করা হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সহায়তা করার জন্য সিএ‑সার্কেল এবিএম রশীদুল বারীর নেতৃত্বে একটি টহল পুলিস দল উপস্থিত হয়। দলটি আহত কর্মকর্তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা সেবা প্রদান করার পর, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
আক্রমণের পরপরই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেনাবাহিনীর একটি দল তৎপরতা চালায়। মেজর মাসুমের নেতৃত্বে গৃহে প্রবেশ করা সেনা দলটি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে এবং অতিরিক্ত সহিংসতা রোধে পদক্ষেপ নেয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সেই সময় পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার করা যায়নি এবং গোলাপের পরিবার ও সমর্থকরা গৃহে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ দলটি আক্রমণের পর গৃহ ছেড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিস ও সেনা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওয়্যারিং অফিসার (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, আক্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের সহিংসতা রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটেছে, তবে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শীতল হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো নতুন সংঘর্ষের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।



