ইমিরেটস স্টেডিয়ামে রাতের বেলা উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছেছিল। আর্সেনাল ২০০৪ সালের পর প্রথম প্রিমিয়ার লীগ শিরোপার পথে ছিল, আর তাদের কাছে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা মাত্র কয়েক পয়েন্টে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার কাছেই। উভয় দলই জয় পেয়ে শীর্ষে চার পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে দিয়েছিল।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্টেটার দল পূর্বের দুই লিগ ম্যাচে লিভারপুল ও নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ০-০ ড্রের পর জয় দরকার ছিল। ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিজের গোলের ফলে আর্সেনাল এক গোলের সুবিধা পায়, তবে তা একমাত্র স্কোর হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে প্যাট্রিক ডোরগু একটি শক্তিশালী শট মারেন, যা আর্সেনালের গলপোস্টের নিচে গিয়ে ইউনাইটেডকে ২-১ এগিয়ে রাখে। এই মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে, কারণ তারা জানে শিরোপার দৌড়ে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব কতটা।
আর্সেনাল ৮৪তম মিনিটে একটি সেট পিসে সুযোগ পায়। বুকে সাকা একটি ক্রস দেন, যার ফলে ইউনাইটেডের ছয়-ইয়ার্ড বক্সে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিকল্প খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো বলটি স্পর্শ করে স্কোর সমান করে, ফলে ম্যাচটি ২-২ সমতায় পৌঁছে।
ম্যাচের শেষের দিকে, ইউনাইটেডের সাবস্টিটিউট মাতেউস কুনহা দূর থেকে একটি বক্র শট মারেন, যা ডেভিড রায়ারকে অতিক্রম করে নেটের পিছনে যায়। এই গোলটি ইউনাইটেডকে শেষ মুহূর্তে ৩-২ করে জয় নিশ্চিত করে। কুনহার এই শটটি ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পর, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হেড কোচ মাইকেল ক্যারিকের নেতৃত্বে দলটি চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। গত শনিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২-০ জয়কে ভিত্তি করে, এই জয়টি নতুন কোচের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে। আর্টেটা ও তার দল এখন শিরোপা দৌড়ে পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবে।
আর্সেনাল এখনো শিরোপা দৌড়ে শীর্ষে ফিরে আসতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তবে তাদের পরবর্তী ম্যাচে লিভারপুল ও নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ড্র ফলের পর পুনরায় জয় অর্জন করা প্রয়োজন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে ম্যানচেস্টার সিটি, যা লিগের শীর্ষে তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।
এই ম্যাচে দেখা যায় যে, প্রিমিয়ার লীগে এক মুহূর্তের ভুল বা চমকপ্রদ গোলই পুরো টেবিলের র্যাঙ্কিং পরিবর্তন করতে পারে। উভয় দলই এখন শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবে।



