বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে ওভিয়েদোর ঘরে ৩-০ তে পরাজিত করে লা লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দলটি আবার লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে, আর রিয়াল মাদ্রিদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। ম্যাচের প্রধান নায়ক ছিলেন ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল, যিনি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গোলের মাধ্যমে দলকে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন।
প্রথমার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণগত উদ্যোগ সীমিত ছিল, দু’টি শটের বেশি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ওভিয়েদোর গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া বেশ কয়েকবার নিরাপদে রক্ষা করেন, আর রিয়ালের ইলিয়াস চাইরার শট পোস্টের বাইরে গিয়ে শেষ হয়। তবে হাইসেম হাসানের কিছু আক্রমণাত্মক চাপও লক্ষ্য করা যায়, যদিও তা গোলের রূপ নেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে গেমপ্লে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। বিরতির পর মাত্র নয় মিনিটে বার্সেলোনা বেশি শট তৈরি করে, যা তাদের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে। ৫২ মিনিটে ইয়ামালের চাপের ফলে রিয়ালের কোয়াসি-সিবোর দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল বেরিয়ে আসে, এবং দানি ওলমো ১৬ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে ডেডলক ভেঙে গোল করেন। এই গোলটি বার্সেলোনার আক্রমণকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
কয়েক মিনিট পরই রিয়ালের ডিফেন্ডার ডেভিড কোস্টাসের দুর্বল ব্যাকপাসের সুযোগ রাফিনহা নেয়। তিনি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শট মারেন এবং ৫৭ মিনিটে স্কোর দ্বিগুণ করেন। রাফিনহার এই গোলটি ট্যাকটিক্যাল ত্রুটির ফলে অর্জিত, যা বার্সেলোনার রক্ষণাত্মক দিককে আরও চাপের মুখে ফেলে।
ম্যাচের সর্বোচ্চ মুহূর্ত ৭৩তম মিনিটে আসে, যখন ওলমোর ক্রস পেনাল্টি এরিয়ার প্রান্তে পৌঁছায়। ইয়ামাল দ্রুত অবস্থান নিয়ে এক আকর্ষণীয় এক্রোবেটিক শটে বলকে জালে পাঠিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন। বড়দিনের পর তার দ্বিতীয় গোলটি দলকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে এবং জয়ের গ্যারান্টি দেয়।
বার্সেলোনার এই জয়ে রিয়ালের শীর্ষস্থান থেকে নামা স্পষ্টতই দলীয় পারফরম্যান্সের পার্থক্যকে তুলে ধরে। রিয়াল মাদ্রিদ পূর্বে সোসিয়েদাদের কাছে হারের পর পুনরুদ্ধারের সংকল্প নিয়ে মাঠে নামলেও, ওভিয়েদোর ঘরে তাদের আক্রমণগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। অন্যদিকে বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধে শটের সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা লা লিগের শীর্ষে ফিরে এসেছে, ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ পূর্ব দিন ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল, তবে এখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। উভয় দলের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই ফলাফল লা লিগের শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন গতিপ্রকোপ দেবে।
সারসংক্ষেপে, ইয়ামালের নৈপুণ্য, ওলমোর সঠিক ক্রস এবং রাফিনহার চিপ শট মিলিয়ে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে শীর্ষে ফিরে এসেছে। দলটি এখন লা লিগের শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, আর রিয়াল মাদ্রিদকে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।



