ঢাকা – রাশিয়ার দূতাবাসের প্রধান রাশিয়া দূত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়ে বলেছেন, দেশের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে রাশিয়া কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে। এই মন্তব্যটি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার প্রকাশিত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পায়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়ে নতুন সরকার গঠন হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাশিয়া দূতের এই বক্তব্য নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে পুনরায় জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়।
দূতাবাসের প্রধান উল্লেখ করেন, রাশিয়া বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
বাংলাদেশ সরকারও রাশিয়ার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা চুক্তিগুলোকে শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তোলা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি মূল লক্ষ্য, আর বাংলাদেশের জন্য বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক হবে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭২ সাল থেকে গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, রেলওয়ে উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেছে, যা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের প্রতিফলন।
দূতাবাসের প্রধানের মন্তব্যের পর রাশিয়া ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সূচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পিত দ্বিপাক্ষিক মিটিংয়ে বাণিজ্যিক চুক্তি, বিনিয়োগ সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে রাশিয়া এবং বাংলাদেশ উভয়ই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি চালিয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



