19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারের রামুতে দশ বছর পুরোনো বোমা সদৃশ বস্তু পুলিশ উদ্ধার

কক্সবাজারের রামুতে দশ বছর পুরোনো বোমা সদৃশ বস্তু পুলিশ উদ্ধার

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দশ বছর ধরে পাথর ভেবে কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা একটি বোমা সদৃশ বস্তু সম্প্রতি সন্দেহের মুখে পড়ার পর পুলিশ হাতে নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দশ বছর আগে কাছের একটি পুকুরের তীরে ভারী ও কঠিন একটি বস্তু পাওয়া যায় এবং সেটিকে সাধারণ পাথর বলে পুকুরপাড়ে রেখে দেয়া হয়। এরপর থেকে পুরুষ ও নারী উভয়ই তা ব্যবহার করে কাপড় ধোয়াতেন, কারণ তা পানিতে ভাসিয়ে রাখলে সহজে ধোয়া যায়।

বস্তুটির আকৃতি ও গঠন নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে সন্দেহ জাগার পর তারা রামু থানার ওসিকে জানায়। ওসির নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অথবা অকার্যকর বোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোমাটিতে বিস্ফোরক পদার্থ আছে কি না তা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে পাঠানো হয়েছে।

বস্তুটির সম্ভাব্য বিস্ফোরক উপাদান পরীক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক পরিদর্শন করেছে। পরীক্ষার ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ নিষ্ক্রিয়করণ বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বোমাটি বর্তমানে একটি নিরাপদ গুদামে সংরক্ষিত এবং পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি চালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা কোনো অনধিকৃত কাজ না করে।

স্থানীয় ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া উল্লেখ করেন, বস্তুটির আকার ও গঠন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বাহিনীর দ্বারা ব্যবহার করা বোমার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ঐ সময়ে এই অঞ্চলে জাপানি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও বোমা ব্যবহার করা হতো।

বড়ুয়া আরও বলেন, যদি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে বোমাটিতে কোনো বিস্ফোরক নেই, তবে তা নিষ্ক্রিয় করে ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যা রামু এলাকার যুদ্ধকালীন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, যদি বিস্ফোরক পাওয়া যায়, তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে তা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

বস্তুটির তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল অংশগ্রহণ করছে এবং বিশ্লেষণ ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলাফলের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে সম্ভাব্য অপরাধমূলক দিক যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রামু থানার তদন্ত বিভাগ বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি বোমাটিতে অবৈধ অস্ত্রের উপাদান পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

অধিকন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা দপ্তর একত্রে কাজ করে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে অনিরাপদ বস্তু পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে, যাতে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।

সারসংক্ষেপে, দশ বছর ধরে সাধারণ পাথর হিসেবে ব্যবহার করা বোমা সদৃশ বস্তুটি এখন নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব পেয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় ফলাফলের ভিত্তিতে বোমাটির নিষ্ক্রিয়করণ বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments