বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান গত রাত্রি কুমিল্লা জেলার সুয়াগাজি দিগবাজির মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশটি রাত ১০:৩০ টায় শুরু হয় এবং উপস্থিত ভক্তদের সামনে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অঞ্চলিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, কুমিল্লা আলাদা বিভাগ হওয়ার দাবি রয়েছে, তবে প্রথমে খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, “বিভাগ গড়ে দিলেও তা মানুষের জন্য খাবার নিশ্চিত করবে না।” এই বক্তব্যে তিনি বিভাগীয় দাবি ও মৌলিক চাহিদার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।
তারেকের অন্যতম প্রধান ঘোষণা ছিল কুমিল্লায় একটি এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপন করা। তিনি বলেন, এই ইপিজেডের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পকে রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ হবে এবং বিশেষত যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভাগীয় দাবি ছাড়াও তারেক কৃষি ও সেচ সমস্যার সমাধানে নালা খনন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, “যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, আমি কুমিল্লা ও চাঁদপুরে গিয়ে নালা খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করব।” এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচের উন্নতি এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নালার মাধ্যমে সেচের জলের প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বন্যা-ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
সমাবেশে তারেক ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য দলকে সমালোচনা করার পরিবর্তে জনগণের মৌলিক চাহিদার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, “সমালোচনা কখনো কখনো প্রয়োজন, তবে বাংলাদেশে মানুষকে যা সত্যিই দরকার তা হল খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং কাজ।” এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতা থেকে দূরে সরে জনগণের মঙ্গলের কথা বলতে চেয়েছেন।
বিএনপি নেতার এই ঘোষণার পর সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে কুমিল্লা ও চাঁদপুরে নালা খনন ও ইপিজেড প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত অগ্রসর হতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কুমিল্লা বিভাগের দাবি ও ইপিজেড পরিকল্পনা বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে নতুন জায়গা তৈরি করতে পারে। এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প ভোটারদের কাছে উন্নয়নমূলক বার্তা পৌঁছাতে সহায়ক হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয় প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন স্তর তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের কুমিল্লা সমাবেশে ইপিজেড গড়ে তোলা, নালা খনন কর্মসূচি এবং বিভাগীয় দাবির ওপর জোর দেওয়া ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদা—খাবার, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—কে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে বাস্তব উন্নয়নের দিকে মোড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হবে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা।



