প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তারকা জেসন গিলেস্পি একদিনে একাধিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পড়েছেন। তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার) এ একটি পোস্টে আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না, এ বিষয়ে আইসিসি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কি?” পাশাপাশি ২০২৫ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সংক্রান্ত পূর্বের ঘটনা তুলে ধরে, “মনে আছে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, পরে আয়োজক দেশ তাদের বাইরে খেলতে অনুমতি দিয়েছে। কেউ কি বিষয়টি বুঝতে পারছেন?” বলে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
এই প্রশ্নের পরপরই ভারত ক্রিকেট দলের সমর্থকগণ গিলেস্পির পোস্টের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্তব্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের প্রাক্তন খেলোয়াড়কে সমালোচনা করা হয়। তীব্র গালিগালাজের মুখে গিলেস্পি শেষ পর্যন্ত টুইটটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন। পোস্ট মুছে ফেলার পর তিনি এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানান, “একটি প্রশ্ন করার কারণে আমাকে অপমান করা হয়েছে, তাই মুছে দিয়েছি। আমি কোনো দলের পক্ষ নিইনি, শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং সমালোচনার মুখে পড়েছি।”
ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গিলেস্পির প্রশ্নটি আইসিসি কর্তৃক নেওয়া সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ ছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বে ভারত ক্রিকেট দল পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে পরে আয়োজক দেশ তাদের অন্য ভেন্যুতে খেলতে অনুমতি দেয়। এই উদাহরণটি তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়ার পেছনের নীতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার জন্য ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়ার ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’ তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশ দল যে গ্রুপে ছিল, সেখানে এখন স্কটল্যান্ড দল যুক্ত হয়েছে। স্কটল্যান্ডের নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি, ইংল্যান্ড এবং নেপাল নির্ধারিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, পরিবর্তনের ফলে কোনো ভেন্যু পরিবর্তন হয়নি, শুধুমাত্র দলগুলোর বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনটি আইসিসি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং শিডিউল অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচগুলো নির্ধারিত হয়েছে।
আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, গিলেস্পির প্রশ্নটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তার টুইটের মুছে ফেলা এবং তার পরবর্তী মন্তব্য দুবাইতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সংক্রান্ত পূর্বের ঘটনা ও বর্তমান সিদ্ধান্তের তুলনা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, আইসিসি কি সমান নীতি প্রয়োগ করছে কিনা।
বিশ্বকাপের সূচিতে স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি নতুন ম্যাচের প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে। স্কটল্যান্ড দল এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি, ইংল্যান্ড এবং নেপালের মুখোমুখি হবে, যা তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা নির্দেশ করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ফলে তাদের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারেও পরিবর্তন আসবে।
গিলেস্পির টুইট মুছে ফেলা এবং তার পরবর্তী বিবৃতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। যদিও তিনি কোনো দলের পক্ষে কথা বলেননি, তবু তার প্রশ্নটি আইসিসি কর্তৃক নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনের মানদণ্ড সম্পর্কে জোরালো অনুসন্ধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আইসিসি যদি এই ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, তবে অনুরূপ বিতর্কের সম্ভাবনা কমে যাবে।
সারসংক্ষেপে, জেসন গিলেস্পির এক্স পোস্টের মুছে ফেলা, ভারত ক্রিকেট দলের সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়ার ফলে গ্রুপ ‘সি’ তে স্কটল্যান্ডের যোগদান—এই সবই বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। আইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত শিডিউল অনুযায়ী স্কটল্যান্ডের নতুন ম্যাচগুলো শীঘ্রই শুরু হবে, আর গিলেস্পির প্রশ্নের প্রেক্ষাপটেও আইসিসি থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



