ডাকসু দলের নেতা কেন্দ্রীয় মাঠে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাধা দিতে কানে চিৎকার করে হুমকি জানিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের প্রধান স্থান, যেখানে নিয়মিত ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ ন্যায়বিচার দাবি করে।
নেতা প্রবেশদ্বার বন্ধ করে, প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের কানে তাড়া করার হুমকি দেন। শিক্ষার্থীরা এই অনধিকারিক আচরণকে নিন্দা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। নিরাপত্তা কর্মীর অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ব্যবহারকারীরা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে মন্তব্যে সমবেত হয়। হ্যাশট্যাগ #CampusSafety দ্রুত ট্রেন্ডে উঠে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সমস্যার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার পোস্টে অতীতের অনুরূপ ঘটনা ও প্রশাসনের অপ্রতিক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে।
চাকমা উল্লেখ করেন যে গত বছরের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মাঠে রাজনীতিবিদ বিভাগের এক শিক্ষার্থী সাইকেল হারিয়েছিলেন। সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও প্রশাসন বাজেটের অভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পদ সুরক্ষার উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, একই ধরনের অভিযোগের পরেও প্রশাসন প্রায়ই দেয়াল সংস্কারের ফাইল ফেরত দেয়, বাজেটের অল্পতা উল্লেখ করে। ফলস্বরূপ, মোবাইল, মানিব্যাগ, সাইকেল ইত্যাদি চুরি হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। শিক্ষার্থীরা বারবার আবেদন করলেও যথাযথ সমাধান না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে।
মাঠের পার্শ্ববর্তী পুরনো দেয়ালটি ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্টাফদের ওপর চাপ দিয়ে কিছু লোক দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে দেয়াল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবহেলা শিক্ষার্থীদের চলাচলকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মাঠে ইট-পাথর ছুঁড়ে ফেলছেন। শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করার পরেও তারা থামেনি, ফলে হুমকি বাড়ছে। এই অব্যাহত হিংসা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি ক্ষুণ্ণ করে।
এসব অবহেলা দেখে চাকমা নিজেও কিছু না করলে অপরাধী হবেন বলে অনুভব করেন। তাই তিনি সামাজিক মাধ্যমে তার অবস্থান প্রকাশ করে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তার পোস্টে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ও সাড়া না পাওয়ার উল্লেখ আছে।
তিনি ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রফেসর সাইফুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনাগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সম্পদ চুরি, শারীরিক হুমকি এবং অবহেলিত অবকাঠামো একত্রে শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবসম্মত সমাধান গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থ



