রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ঢাকা শহরের বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ অনুসারে গঠিত জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যয়বহুল চুক্তিগুলোর বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। কমিটি জানায় যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দেশের বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করেছে।
এই কমিটি ২০১১ সালে আইন অনুযায়ী গঠন করা হয়, যার প্রধান কাজ হল বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে গৃহীত চুক্তিগুলোর আইনি ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করা। কমিটির সদস্যরা তিন মাসের বেশি সময় ধরে চুক্তিপত্র, মূল্য নির্ধারণের নীতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেছেন। কমিটি প্রতি মাসে একবার সরকারকে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনী প্রস্তাব করে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে স্বাক্ষরিত বেশ কয়েকটি চুক্তিতে অস্বাভাবিক মূল্য কাঠামো, অস্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া এবং অপ্রতুল ঝুঁকি ভাগাভাগি ব্যবস্থা দেখা গেছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোতে প্রায়শই উচ্চতর বিদ্যুৎ মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদী শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দেশের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতি না থাকা বিষয়টি তদারকি সংস্থার নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি বিশেষভাবে আদানি গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ চুক্তি বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করেছে যে, এই চুক্তিতে মূলধন ব্যয়, বিদ্যুৎ মূল্য এবং শর্তাবলীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অনিয়ম রয়েছে। চুক্তির মূল্য নির্ধারণে বাজার মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত করা হয়েছে এবং চুক্তির সময়সীমা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ রাখা হয়েছে। এছাড়া, চুক্তি সম্পাদনের সময় দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কমিটির হিসাব অনুযায়ী, আদানি গ্রুপের চুক্তি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচে অতিরিক্ত ব্যয়, রিজার্ভ ফান্ডের হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ভোক্তাদের উপর মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে প্রকাশ পাবে।
কমিটি চুক্তি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য তৎক্ষণাত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এতে চুক্তির পুনঃআলোচনা, শর্তাবলীর সংশোধ



