প্রাক্তন ভারতীয় উচ্চ কমিশনার ও বর্তমান সংসদ সদস্য হারশ বর্ধন শ্রীংলা, যিনি শিলিগুড়িতে নেটাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর স্মরণে অংশগ্রহণের পর মন্তব্য করেন, যে “বিনামূল্যে ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন হলে জামায়াত-এ-ইসলামি জয়ী হতে পারবে না”। শ্রীংলা এই কথা বলার সময় উল্লেখ করেন, পার্টির ভোটশেয়ার পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে এবং শুধুমাত্র নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত না হলে, জালিয়াতি হলে পার্টি শাসনে আসতে পারে।
এই মন্তব্যের পর জামায়াত-এ-ইসলামির সচিব সাধারণ মিয়া গোলাম পরওয়ার সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। পরওয়ার শ্রীংলার কথা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও বিদেশ নীতির বিরোধী বলে উল্লেখ করে, “একজন প্রাক্তন কূটনীতিক ও সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়” বলে সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে পরওয়ার শ্রীংলার মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যমূলক বলে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “একটি দেশের জনগণই নির্ধারণ করে তারা কাকে ভোট দেবেন এবং কাকে দেবেন না; কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদকে কোনো পার্টির জনসমর্থন নির্ধারণের অধিকার নেই”।
পরওয়ার আরও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষই দেশের মালিক, এবং তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে”। তিনি শ্রীংলার মন্তব্যকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সন্দেহ উত্থাপন এবং দুই প্রতিবেশীর কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন।
জামায়াত-এ-ইসলামি নিজেকে নিবন্ধিত, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক পার্টি হিসেবে উপস্থাপন করে, যা জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। পার্টি জানায়, “যদি একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে জনগণ তাদের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করবে, এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই”।
বিবৃতিতে ভারতের দায়িত্বশীল অংশীদারদেরকে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ না করা হয়। পরওয়ার উল্লেখ করেন, “দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পারস্পরিক অশ্রদ্ধা না করা জরুরি”।
শ্রীংলার মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল সিলিগুড়িতে নেটাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো অনুষ্ঠান। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। শ্রীংলা বলেন, “যদি নির্বাচন মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত হয়, তবে ইসলামিক পার্টি কখনো জয়ী হতে পারবে না; শুধুমাত্র যদি নির্বাচন নিরপেক্ষ না হয়, জালিয়াতি হয়, তখনই তারা ক্ষমতায় আসতে পারে”।
শ্রীংলা এছাড়াও জামায়াত-এ-ইসলামির ভোটশেয়ার পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা হয়নি, তবে তিনি এটিকে তার বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
জামায়াত-এ-ইসলামির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। পার্টি উল্লেখ করে, “বিনামূল্যে ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন হলে জনগণই তাদের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ করবে, এবং আমরা সেই ফলাফলে সন্তুষ্ট থাকব”।
শ্রীংলার মন্তব্যের ফলে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি স্পষ্টভাবে বলেছে যে তারা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপকে স্বীকার করবে না এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামি ভারতের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে অনুরোধ করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য না করে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখে। পার্টি আশা করে, আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত হবে, এবং জনগণ তাদের স্বেচ্ছা ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দেবেন।



