আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) প্রথমবারের মতো সশস্ত্র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা শোনাচ্ছে, তবে চলমান তিনটি মামলায় প্রক্রিয়াগত ত্রুটি দেখা গেছে।
এই মামলাগুলোতে যথাক্রমে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা DGFI, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
ট্রায়াল শুরু করার সময়, বিচারকগণ প্রথম সাক্ষীর আগে প্রসিকিউশনকে তার উদ্বোধনী বক্তব্য দিতে এবং সাক্ষীকে ডাকা অনুমোদন করেন, যদিও অভিযুক্তের আইনজীবীদের কাছে চাঁদা ফ্রেমিং আদেশের লিখিত নকল সরবরাহ করা হয়নি।
লিখিত আদেশের অনুপস্থিতি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সৃষ্টি করে। প্রথমত, রক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেন না কোন আইনি অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ক্লায়েন্টকে বিচার করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আদেশ না পাওয়ার ফলে তারা ট্রায়াল শুরুর আগে রিভিউ আবেদন দাখিলের অধিকার ব্যবহার করতে পারেন না।
আইসিটি আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কেবল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেই আপিলের অধিকার থাকে; অন্য কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। এই বিধান পূর্বের ১৯৭১ যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একই ধারা থেকে পরিবর্তনহীন, ফলে আইসিটি-তে বিচারিতদের সাধারণ অপরাধ আদালতের তুলনায় কম প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা প্রদান করা হয়।
সাধারণ অপরাধ প্রক্রিয়া কোডের অধীনে চলা আদালতে রিভিউ আবেদন এবং আদেশের আপিলের সুযোগ থাকে, যেখানে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে মধ্যবর্তী আদেশের আপিলের ব্যবস্থা সাধারণত থাকে। আইসিটি-তে এই সীমাবদ্ধতা রক্ষা পক্ষের আইনি প্রতিরোধকে কঠিন করে তুলছে।
আইসিটি প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী ২৬(৩) ও ২৬(৪) অনুযায়ী রক্ষা পক্ষকে কিছু মৌলিক অধিকার প্রদান করা হয়েছে, তবে তা চাঁদা ফ্রেমিং আদেশের অনুপস্থিতিতে কার্যকর হয় না। ফলে, রক্ষা পক্ষের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারকগণ এই প্রক্রিয়াগত অবহেলাকে অস্বীকার করে, মামলার দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছেন। তবে আইনি বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে মামলার বৈধতা ও ফলাফলে প্রশ্ন তুলতে পারে।
প্রতিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর রিভিউ আবেদন দায়ের করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যা উচ্চতর আদালতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির পুনর্বিবেচনা আনতে পারে।
আইসিটি-র এই প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপগুলো দেশের বিচারিক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পরবর্তী পর্যায়ে রক্ষা পক্ষের আবেদন ও উচ্চতর আদালতের রায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা দেশের আইনি পরিবেশে নজর রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



