বাগেরহাটের পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনও রোববার সকাল থেকে অজানা বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি সমেত ফোন কল পেয়েছেন। কলগুলোতে গালি-গালাজ এবং “সাদ্দামের সঙ্গে কী করছো” ইত্যাদি কথোপকথন শোনা যায়, যা দুজনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
সুপারিনটেন্ডেন্ট চৌধুরী জানান, তিনি একাধিক কল পেয়েছেন এবং কলের উৎস তদন্তের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কলের প্রেরকদের পরিচয় জানার জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বাতেনও একই সময়ে একই রকম হুমকিসহ কল পেয়েছেন। তিনি বলেন, কলগুলো অনভিপ্রেত এবং তিনি এতে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করছেন না, তবে প্রশাসনিক দায়িত্বের স্বার্থে বিষয়টি গম্ভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্ভবত বট নম্বর ব্যবহার করে এই ধরনের কল করা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
বাগেরহাটের পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোরে আলোচনা হয়। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত হুমকিসহ কলের ভিত্তিতে কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখনো কোনও জিডি (জামিনদারী) রেজিস্টার করা হয়নি।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনার প্রতি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ও ‘বিব্রতকর’ মন্তব্য করেন। তারা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনার ব্যবহার করে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করা হচ্ছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের মতে, কলগুলোতে ব্যবহৃত নম্বরগুলো বিদেশি এবং সম্ভবত স্বয়ংক্রিয় বট সিস্টেমের মাধ্যমে চালু হয়েছে। ফরেনসিক টিম কলের রেকর্ড, সময় এবং নম্বর বিশ্লেষণ করে অপরাধীর পরিচয় বের করার চেষ্টা করবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধিক তথ্য পাওয়া না গেলে, বর্তমান পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ই সতর্কতা অবলম্বন করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুমকি সমেত কলের শিকারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় হলে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, বাগেরহাটের অন্যান্য সরকারি কর্মী ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, হুমকির মুখে সবার শান্ত থাকা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকি বন্ধ করার জন্য প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক থেকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের পুলিশ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে জনসাধারণকে জানাবে। শেষ পর্যন্ত, হুমকি সমেত কলের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনা এই দুই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।



