রবিবার রাতের নির্বাচনী সমাবেশে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শোনা গেল। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে সরকারে ফিরে পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা তুলে ধরেন। সমাবেশে বিএনপি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সভাপতি ও কুমিল্লা‑১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং জেলা সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনসহ বহু নেতা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা নাকি দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। আমরা ধোঁকা দিতে যাব কেন? এই মানুষদের কাছে আমাদের আবারও আসতে হবে না? আমরা সরকারে ছিলাম। কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়, বিএনপি জানে।” তিনি সরকারের সময়ে করা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন এবং বিএনপির নিজস্ব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বক্তা উল্লেখ করেন, “অনেকেই কয়েকদিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন, আমরা সরকারে গেলে একসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড দিব। আমরা কিন্তু একবারও বলিনি এ কথা। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব।” তিনি অতিরিক্ত সুবিধা বা উপহার দিয়ে ভোট জিততে চাওয়া রাজনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে সতর্কতা জানান।
তারেকের মতে, সমালোচনা করা ব্যক্তিদের দেশের পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি সমালোচকদের প্রতি তীব্র মন্তব্য করেন, “যারা সমালোচনা করছে, তাদের দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই।” এই বক্তব্যে তিনি বিরোধী দলের নীতিগুলোর প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতা ধর্মীয় দিকেও মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, “তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে বের হবেন। এরপর জামাতে ফজরের সালাত আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট শুরু হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, যাতে করে কেউ ভোট ডাকাতি না করতে পারে।” তিনি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের শেষ মন্তব্যে তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করেন, “বিজয়ী হলে আমি আবারও চৌদ্দগ্রাম এসে খাল খনন করব।” এই প্রতিশ্রুতি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা তারেকের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে, বিএনপির পরিকল্পনা ও নীতিগুলোকে জনগণের মঙ্গলে রূপান্তর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কুমিল্লা‑১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচনের পর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিনও উল্লেখ করেন, দলটি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বিএনপি জেলা সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনও সমাবেশে উপস্থিত থেকে দলের সংগঠনের শক্তি ও ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চৌদ্দগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় দলের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সকল স্তরের সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি কুমিল্লা অঞ্চলে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় জোরদার করতে চায়। উপস্থিত ভক্তদের কাছ থেকে তালি ও উল্লাসের সঙ্গে বক্তার বক্তব্যের প্রশংসা করা হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের নির্বাচনী জনসভা পার্টির ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কুমিল্লা অঞ্চলে ভোটের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে বিএনপির পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
পরবর্তী দিনগুলোতে কুমিল্লা-১১ ও কুমিল্লা-দক্ষিণের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিএনপি দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী কৌশল চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেবে।



