28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাজাবিতে আইন ও রিমোট সেন্সিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালা ও পুরানো...

জাবিতে আইন ও রিমোট সেন্সিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালা ও পুরানো পদ্ধতির দ্বন্দ্ব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং ও জিআইএসে নতুন নিয়োগ নীতিমালা অনুসারে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেও পুরানো (২০১৬) নীতিমালার ভিত্তিতে সিলেকশন বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখা সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের পর ২৪ সেপ্টেম্বর উক্ত দুই বিভাগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে আবেদনকারীদের মাধ্যমিক থেকে গবেষণা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে স্কোরিং করা হবে এবং সর্বোচ্চ স্কোরধারী প্রার্থীদের ভিভা ও ডেমো ক্লাসে অংশ নিতে বলা হবে। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

নতুন নীতিমালায় কিছু অসঙ্গতি প্রকাশের পর একাডেমিক কাউন্সিলের আলোচনার মাধ্যমে ১১ ডিসেম্বর সিন্ডিকেটে সংশোধনী গৃহীত হয়। সংশোধনীর ফলে স্কোরিং পদ্ধতি ও পরীক্ষার ধাপগুলোতে অতিরিক্ত স্পষ্টতা আনা হয়, তবে মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে।

বিপরীতভাবে, ২৪ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২৯ জানুয়ারি ও ৩ ফেব্রুয়ারি দুই তারিখে পুরানো ২০১৬ সালের নীতিমালা অনুসারে সিলেকশন বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরানো পদ্ধতিতে ভিভা ও ডেমো ক্লাসের কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগের সম্ভাবনা থাকে। এই তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে নিশ্চিত করেন, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

পুরানো নীতিমালার ব্যবহার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আইন ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের ছাত্র জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “গত বছরগুলোতে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি। নতুন নীতিমালা অনুমোদনের পরেও পুরানো নীতিমালায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। প্রশাসন কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর জন্যই এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।”

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী একইভাবে মন্তব্য করেন, “নতুন নীতিমালা অনুমোদনের পর পুরানো নিয়মে নিয়োগ করা আইনসঙ্গত নয়। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সম্ভাবনা বাড়ে।” উভয়ই উল্লেখ করেন যে, পুরানো পদ্ধতি ব্যবহার করলে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জানান, “সিলেকশন বোর্ডের গঠন ও সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ এবং তা নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে পুরানো নীতিমালার ব্যবহার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি পুরানো নীতিমালা অনুসারে সিলেকশন বোর্ড গঠিত হয়, তবে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।

শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালার পরিবর্তন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়মতো তথ্য প্রকাশ করা এবং সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, নতুন নীতিমালা অনুসারে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো উচিত নাকি পুরানো পদ্ধতি কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন এবং শিক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments