সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (MOHRE) পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, দেশের শ্রমবাজারে কাজ করতে হলে অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিট থাকা বাধ্যতামূলক। পারমিট ছাড়া কোনো নিয়োগকর্তা কর্মী নিয়োগ বা কাজের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবে না, আর এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে জেল এবং আর্থিক জরিমানা অন্তর্ভুক্ত, আরোপ করা হবে।
MOHRE প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্রম আইন মূলত কর্মসংস্থানের সম্পর্ককে সুসংগঠিত করা, শ্রমিক শোষণ রোধ করা এবং শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকে লক্ষ্য রাখে। এই নীতির ভিত্তিতে সরকার বর্তমানে মোট বারোটি ভিন্ন ধরণের ওয়ার্ক পারমিট স্বীকৃতি দিয়েছে, যা বিভিন্ন কর্মসংস্থান কাঠামো ও কর্মীর অবস্থান অনুযায়ী সাজানো।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ক পারমিট। এই পারমিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বিদেশ থেকে কর্মী আনতে পারে। একই সঙ্গে, ট্রান্সফার পারমিট দেশের ভিতরে ইতিমধ্যে কাজ করা অনাগরিক শ্রমিকদের এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তরের সুযোগ দেয়।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য পারমিট পারিবারিক স্পনসরশিপের অধীনে নির্দিষ্ট শর্তে কাজের অনুমতি প্রদান করে। স্বল্পমেয়াদী কাজের জন্য টেম্পোরারি ও মিশন পারমিট, সীমিত সময়ের জন্য পার্ট-টাইম পারমিট এবং ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের জন্য কঠোর শর্তে জুভেনাইল পারমিট প্রযোজ্য। এই সব পারমিটের লক্ষ্য হল শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা এবং শ্রমবাজারকে নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ রাখা।
বৈধ পারমিট ছাড়া কাজ করা বা অন্যকে কাজ করিয়ে দেওয়া হলে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে, যা ব্যবসায়িক পরিবেশে অননুমোদিত কর্মসংস্থানের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কোম্পানিগুলোকে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে পারমিটের বৈধতা ও শর্তাবলী সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়। এই প্রয়োজনীয়তা নিয়োগের সময়সীমা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে অবৈধ শ্রমিক ব্যবহার কমিয়ে শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, পারমিটের কঠোর প্রয়োগ শ্রমিক সরবরাহের গুণগত মান উন্নত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে, পারমিট প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়সীমা ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে, এসব প্রতিষ্ঠানকে মানবসম্পদ পরিকল্পনা ও বাজেটিংয়ে পারমিট সংক্রান্ত খরচকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ইউএই সরকার শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করে চলেছে। ভবিষ্যতে পারমিটের ধরণ ও শর্তাবলীতে পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদা ও আন্তর্জাতিক শ্রম নীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে এই পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে নিয়মিত আপডেট গ্রহণ করতে হবে, যাতে অনিচ্ছাকৃত লঙ্ঘন এড়ানো যায়।
সারসংক্ষেপে, ইউএই-তে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি শ্রমিকের সুরক্ষা, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং দেশের শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। কোম্পানিগুলোকে পারমিট প্রক্রিয়ার সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়।



