20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানাল

জামায়াত-এ-ইসলামি হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানাল

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াত-এ-ইসলামি রোববার (২৫ জানুয়ারি) হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজ্যসভার সদস্যের বাংলাদেশি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানাল। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই বিষয়টি নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বক্তব্য তথ্যবিকৃত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদ যদি মন্তব্য করেন, তা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের সমান।

শ্রিংলা গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, দলটি কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও পারে না, এবং অতীতে দলটি সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, এমন মন্তব্যের ভিত্তি নেই এবং তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব অধিকার এবং কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।

শ্রিংলার মন্তব্যের পর, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, বিদেশি কূটনীতিকের অদূরদর্শী বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এমন মন্তব্য কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে হস্তক্ষেপের চেষ্টা নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সেতুতে ক্ষতি করে।

বক্তব্যের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, যদি এধরনের মন্তব্য অব্যাহত থাকে, তবে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ওপর চাপ আসতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি একটি নিবন্ধিত ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে স্বচ্ছ নির্বাচন, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় অটল। তিনি বলেন, দলটি সবসময় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে দাঁড়াবে এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

শ্রিংলার মন্তব্যের পেছনের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি পূর্বে ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তবে এইবারের মন্তব্য বিশেষভাবে নির্বাচনী ফলাফল ও ভোটার আচরণ নিয়ে ছিল, যা সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

জামায়াত-এ-ইসলামি দল এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, ভবিষ্যতে ভারতের দায়িত্বশীল মহলকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। দলটি আশা প্রকাশ করে, উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় থাকবে।

দলটির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ছে, কারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এমন নিন্দা ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অবশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিদেশি রাজনীতিবিদদের মন্তব্যকে কোনোভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকদেরই আছে।

এই ঘটনায় জামায়াত-এ-ইসলামি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায় এবং উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে আহ্বান জানায়। দলটি জোর দিয়ে বলছে, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments