বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যায় ফেনি সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করার কথা জানিয়ে বক্তৃতা দেন। সমাবেশটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভোটের অধিকার সংরক্ষণ ও গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য সতর্কতা বজায় রাখা। তিনি গত পনেরো বছর ভোটাধিকার জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে, এখন যখন আবার স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, তখন কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বক্তা আরও জোর দিয়ে বলেন, “আপনার ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন”। তিনি উপস্থিত সকলকে চোখ-কান খোলা রাখার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে কোনো গোপন পরিকল্পনা বা অবৈধ হস্তক্ষেপের মুখোমুখি না হতে হয়।
তারেক রহমানের ভাষণে দেশ গঠনের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। তিনি বললেন, “এই দেশ যদি আমরা না গড়তে পারি, ভবিষ্যৎ ধ্বংস হবে” এবং দেশকে প্রথম ও শেষ ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করে, সকলের ঐক্য ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সংক্ষেপে বলেন, “একসাথে কাজ করলেই আমরা দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব”।
সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফেনি, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিএনপি প্রার্থীরা। ফেনি-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আওয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুক, ফেনি-২ আসনের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন (ভিপি), নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং ফেনি-১ আসনের প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু) সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি জেলা আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন এবং বক্তৃতার পর বিভিন্ন পার্টি কর্মকর্তার মতামত শোনা যায়। দলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহ-সংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফসহ বহু নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশটি মাগরিবের নামাজের পর শুরু হয় এবং তারেক রহমানের ২৫ মিনিটের ভাষণই প্রধান আকর্ষণ ছিল। দুই দশক পর ফেনিতে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে তারেকের অংশগ্রহণ প্রথমবারের মতো দেখা যায়, যা স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
সমাবেশে উপস্থিত কয়েক হাজার নেতা, কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ মঞ্চের দিকে মনোযোগ দিয়ে তারেকের কথা শোনেন। তিনি দেশের উন্নয়ন, যুব শক্তি ব্যবহার এবং সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
বিএনপি দল সমাবেশের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নিজের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভোটারদের কাছে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জানিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা একসাথে না থাকি, তবে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়”।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য পার্টি নেতারা তারেকের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি প্রকাশ করে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, “গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে হলে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয় প্রয়োজন”।
এই সমাবেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিএনপি দল দেশের বিভিন্ন জেলায় সমানভাবে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। দলটি ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য রোড শো, সভা ও বিতরণমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই বক্তৃতা এবং সমাবেশের আয়োজন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সংহতি গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের সমাবেশের গুরুত্ব বাড়বে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।



