পোর্টস্মাউথ ফ্রাটন পার্কে সাউদাম্পটনের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে সমান স্কোর করে রিলিগেশন জোন থেকে বেরিয়ে এসেছে। গেমের ৭৭তম মিনিটে জ্যানুয়ারিতে ডার্বি থেকে আসা মিডফিল্ডার এবু অ্যাডামসের হেডার সমান গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দিয়েছে।
প্রথমার্ধে সাউদাম্পটন ৫৭তম মিনিটে লিও স্কিয়েন্সার গোলের মাধ্যমে অগ্রগতি লাভ করে। স্কিয়েন্সার এই গোলটি দলকে ৫০ বছরের পর প্রথমবার ফ্রাটন পার্কে লিগ জয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তবে পোর্টস্মাউথের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।
খেলাটির সূচনাতেই উভয় দলে তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়। পোর্টস্মাউথের ম্যানেজার জন মুসিনহো এবং সাউদাম্পটনের টোন্ডা একার্টের টাচলাইন কথোপকথন ম্যাচের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। প্রথমে কুরি মাতসুকির মিডফিল্ডে চমৎকার ফ্লিকের পর অ্যাডাম আর্মস্ট্রংকে ফিন আজাজ পাস দেন, তবে নিকোলাস শ্মিডের বাম পা দিয়ে শটটি বাধা দেয়। পরের মুহূর্তে জেমস ব্রি ডান দিক থেকে ক্রস করেন, আর আর্মস্ট্রংয়ের হাফ-ভলেয়ের শটকে পোর্টস্মাউথের গোলরক্ষক আবারও রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধে পোর্টস্মাউথের অধিকাংশ বলের মালিকানা ছিল, তবে পরিষ্কার সুযোগের সংখ্যা সীমিত ছিল। মিলে নিক আল্লি সাইড-ফুটে শট মারলেও তা সামান্য বাম দিকে চলে যায়। সেজেকের শটও পোস্টের ছাদে আঘাত করে ফিরে আসে। সাউদাম্পটনের কোচ একার্ট খেলোয়াড়দের “শীতল মাথা, গরম হৃদয়” বজায় রাখতে বলেছিলেন, যা দলকে দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত সমতা ভাঙতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ার্ধের ১২তম মিনিটে স্কিয়েন্সা আবারও গোল করেন, যা সাউদাম্পটনের ১-০ অগ্রগতিকে দৃঢ় করে। স্কিয়েন্সা পূর্বে শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-০ জয় নিশ্চিত করেছিল, তাই তার এই গোলটি ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে। তবে পোর্টস্মাউথের আক্রমণাত্মক চাপ অব্যাহত থাকে।
গেমের শেষের দিকে, সেজেকের কর্নার থেকে অ্যাডামসের হেডার ৭৭তম মিনিটে গোল নেটের পিছনে গিয়ে সমতা রক্ষা করে। এই গোলটি ভক্তদের মধ্যে তীব্র উল্লাসের সঞ্চার ঘটায় এবং পোর্টস্মাউথকে রিলিগেশন ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেয়।
এই পয়েন্টের ফলে পোর্টস্মাউথ ২১তম স্থানে উঠে ব্ল্যাকবার্নকে ছাড়িয়ে যায়, আর সাউদাম্পটন ১৫তম স্থানে অবস্থান বজায় রাখে। সাউদাম্পটনের রোডে ক্লিন শিটের অপেক্ষা এখন ২৫ লিগ গেমে বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ম্যাচটি দুই দলের মধ্যে ১৫ বছর পরের প্রথম সাক্ষাৎ, এবং ১৯৭৬ সাল থেকে ফ্রাটন পার্কে সাউদাম্পটনের জয় অর্জন করা হয়নি। মোট পাঁচটি ম্যাচই এই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা উভয় দলের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ম্যাচের পর ম্যানেজার মুসিনহো এবং একার্টের মন্তব্যে দেখা যায়, উভয় কোচই দলকে শীতল মনের সঙ্গে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছেন। পোর্টস্মাউথের খেলোয়াড়রা এই পয়েন্টকে সিজনের বাকি অংশে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে, আর সাউদাম্পটন রোডে ক্লিন শিটের সন্ধানে মনোযোগ দেবে।



