19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি রালির আগে ১৮টি মাইক ও পাঁচটি কয়েল তার চুরি

চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি রালির আগে ১৮টি মাইক ও পাঁচটি কয়েল তার চুরি

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে শনিবার রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের রালির পূর্বে ১৮টি মাইক এবং পাঁচটি কয়েল তার চুরি হয়েছে। ঘটনাটি রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে প্রকাশ পায়, যখন রালির গেটের বাইরের বিদ্যুৎ পোলের উপরে স্থাপিত সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হয়। চুরি করা সরঞ্জামগুলো রালির অডিও সিস্টেমের মূল অংশ ছিল, যা ইভেন্টের জন্য প্রায় ২০০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছিল।

রালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সমাবেশের চারপাশে অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠি ও পাথর বহন নিষিদ্ধ করা হয় এবং ড্রোন টহলসহ কঠোর গমননিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। শনিবার রাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে, বিশাল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এসব ব্যবস্থার পরেও চুরি ঘটার খবর জনমনে বিস্ময় ও প্রশ্ন তুলেছে।

রাজ সাউন্ড সিস্টেমের মালিক আবদুর রাজ্জাক জানান, রালির জন্য তারা প্রায় দুইশোটি মাইক ব্যবহার করেছিল এবং রাত ১১টার দিকে সবকিছু পরীক্ষা করে সরঞ্জামগুলো নিরাপদে রেখে মাঠ ত্যাগ করে। সরঞ্জামগুলো রক্ষার জন্য তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীও নিয়োজিত ছিল। তবে রোববার সকালে গেটের বাইরে বিদ্যুৎ পোলের প্রায় ১৫-১৬ ফুট উঁচুতে ঝুলিয়ে রাখা ১৮টি মাইক ইউনিট এবং পাঁচটি কয়েল তার অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

চুরি ঘটার পর রাজ্জাক তৎক্ষণাৎ কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, বিএনপি নেতাদের পরামর্শে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং চুরি করা সরঞ্জামের ক্ষতিপূরণ ও দায়িত্বশীলদের বিচারের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা চোরের সনাক্তকরণ করা যায়নি।

কোতোয়ালী থানার ওয়ানডি অফিসার আফতাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগে জানা যায়, তিনি ভিভিআইপি প্রোটোকল ডিউটির কারণে চুরির বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি জানান, তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা চুরি ঘটার সময় ড্রোন টহল ও গমননিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করছেন।

দ্রষ্টব্য, তারেক রহমান ২০ বছরের পর চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিতে এসেছিলেন। শনিবার রাতে শহরে পৌঁছে, তিনি রালির প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং রোববার দুপুরে রালির স্থানে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তার এই সফর উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক গতি-প্রবাহের অংশ হিসেবে গণ্য হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তীব্রভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

চুরি ঘটার পর পুলিশ রেডি-ফোর্স দলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে, চোরের সম্ভাব্য পথ ও সনাক্তকরণে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, রালির আয়োজকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত ক্যামেরা ও মানবিক তদারকি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন।

আইনি দিক থেকে, চুরি করা সরঞ্জামগুলো সম্পত্তি চুরির অধীনে শাস্তিযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোতোয়ালী থানার তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, চুরি করা মাইক ও কয়েল তারের মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে। এছাড়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধ করা হবে।

এই ঘটনা চট্টগ্রামের নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতা ও সমাবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রালির আয়োজক ও নিরাপত্তা দায়িত্বশীলরা এখন তদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করছেন এবং ভবিষ্যতে সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments