রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পূর্বে ও নির্বাচনের দিন কোনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে বলে স্পষ্ট সতর্কতা জানায়। এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের সময় যদি কোনো দল বা তার সমর্থক নাশকতা, সহিংসতা বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাধা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নিরাপত্তা দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের দিন ও তার পূর্বে সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের প্রস্তুতি ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ভোটদান প্রক্রিয়া রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকে অর্পিত হয়েছে, এবং এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অগ্রাধিকার। সরকার উল্লেখ করেছে যে, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং যে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা, তা হুমকি, গুলিবিদ্ধি, ধ্বংসাত্মক কর্ম বা গুজবের মাধ্যমে হোক, কঠোর হাতে দমন করা হবে। এই নীতি সকল রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, যা সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
সতর্কবার্তা সকল রাজনৈতিক দলকে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগসহ প্রধান দলগুলোও অন্তর্ভুক্ত। সরকার প্রত্যাশা করে যে, দলগুলো নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং কোনো সহিংসতা না ঘটিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে।
এই ঘোষণার ফলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের ধরণে পরিবর্তন আসতে পারে; দলগুলো এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে বেশি গুরুত্ব দেবে এবং জনসমাবেশের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আইনগত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ও রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
বিবৃতি অনুসারে, কোনো দল যদি সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে তা নির্বাচন বাতিলের কারণ হতে পারে। এই কঠোর নীতি নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে সহায়তা করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার এই মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাতে চায় যে, নির্বাচনী সময়ে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে তা তীব্রভাবে মোকাবেলা করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের ফলাফল স্বেচ্ছা ও স্বচ্ছভাবে নির্ধারিত হবে, এবং ফলাফল প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অব্যাহত থাকবে। এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে।
শেষে, সরকার সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা নির্বাচনের আগে ও দিনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।



