বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জয়েল হাসান সাদ্দাম, যিনি বর্তমানে যশোর সেন্ট্রাল জেলে আটক আছেন, তার পারোল অনুরোধ প্রত্যাখ্যানকে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আজ মানব অধিকার সংস্থা আইন ও সলিশ কেন্দ্র (ASK) প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ASK-র চেয়ারপারসন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জি.আই. খান পন্না স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি মিডিয়াকে পাঠানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পারোল না দিয়ে সাদ্দামকে কেবল জেল গেট থেকে দেহ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
গতকাল দুপুরের দিকে পুলিশ সবে কডাঙ্গা গ্রাম, সাবেকডাঙ্গা এলাকায় সাদ্দামের স্ত্রী ও নবমাসের শিশুর দেহ উদ্ধার করে। পরিবার জানায়, দেহ পাওয়ার পর তারা সাদ্দামের জন্য পারোলের আবেদন করেছিল যাতে তিনি শোকের সময়ে উপস্থিত থাকতে পারেন, তবে অনুমতি না পেয়ে দেহগুলো জেল গেটের কাছে নিয়ে আসা হয়।
পরিবারের আবেদনটি শোকের জরুরি পরিস্থিতিতে করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পারোল মঞ্জুর না করে কেবল দেহ দেখার ব্যবস্থা করে। ASK এই সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত ও অবমাননাকর বলে সমালোচনা করে, এবং উল্লেখ করে যে এটি দেহ দেখার সীমাবদ্ধতা সাদ্দামের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করেছে।
ASK বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা ২৭, ৩১ ও ৩৫(৫) এর উল্লেখ করে জানায়, ধারা ২৭ সকল নাগরিককে আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করে, ধারা ৩১ আইনের সুরক্ষা ও অধিকার গ্যারান্টি দেয়, আর ধারা ৩৫(৫) নিষিদ্ধ করে যে কোনো ব্যক্তি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার হবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জয়েল হাসান সাদ্দাম এখনো বিচারাধীন অপরাধী, তাই তিনি সংবিধানের সুরক্ষার অধিকারী। তবে পারোল না দিয়ে তাকে শোকের অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত করা, তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণে নিমজ্জিত করেছে, যা সরাসরি ধারা ৩৫(৫) লঙ্ঘন করে।
সরকারের পারোল নীতি সম্পর্কে উল্লেখ করে, গৃহ মন্ত্রণালয় ১ জুন ২০১৬ তারিখে একটি নীতি প্রণয়ন করে, যা নির্দিষ্ট শর্তে অপরাধীর পারোল অনুমোদন করে। ASK দাবি করে, বর্তমান ক্ষেত্রে পারোলের আবেদন যথাযথ মানবিক কারণের ভিত্তিতে করা হয়েছে, তবু নীতি অনুযায়ী তা মঞ্জুর না হওয়া নীতির সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ASK এই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নির্দেশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পারোল প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে সংবিধানিক চ্যালেঞ্জ দায়ের করা হবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছে অভিযোগ উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে দ্রুত স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জয়েল হাসান সাদ্দামের আইনজীবী দলও পারোলের আবেদন পুনরায় দাখিলের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে তিনি শোকের সময়ে উপস্থিত হতে পারেন। বিষয়টি এখন আদালতে আলোচনার অপেক্ষায়, এবং পারোল নীতি ও সংবিধানিক অধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক বাড়তে পারে।



