28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুলশানে রড পতনে পথচারী নিহত, কনকর্ড গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

গুলশানে রড পতনে পথচারী নিহত, কনকর্ড গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

গুলশান এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে একটি রড পড়ে ১৪০ নম্বর রোডে হেঁটে যাচ্ছিলেন আশফাক চৌধুরীর মাথায় আঘাত হানা হয় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা থেকে দুইটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। একই দিনে তার শ্বশুর মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার গুলশান থানা-তে মামলাটি দাখিল করেন।

মামলায় কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, গ্রুপের চেয়ারম্যান এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আল আমিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি হল নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ অনুসরণ না করা, যার ফলে রডটি সঠিক সুরক্ষাবিহীন অবস্থায় নিচে পড়ে গিয়ে পথচারীর মাথায় আঘাত করে।

সিরাজুল ইসলাম মামলার এজহারে উল্লেখ করেন, তার জামাতা আশফাক চৌধুরী সহকর্মী সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে গুলশানের ১৪০ নম্বর রোডে কথা বলছিলেন, তখন নির্মাণাধীন ‘কনকর্ড এম.বি.আর. স্কাইলাইন’ ভবনের ২৫ তলা থেকে একটি রড নিচে পড়ে তার মাথায় আঘাত করে। তিনি বলেন, নির্মাণস্থলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবহেলিত হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এটি চূড়ান্ত দায়িত্বের অবহেলা ও অপরাধমূলক গফিলতি হিসেবে গণ্য করা উচিত।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রডটি নিরাপত্তা জাল বা কোনো রক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া সরাসরি রাস্তার দিকে ঝুঁকে ছিল, ফলে কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন নির্মাণ সংস্থার ওপর শাস্তিযোগ্য অপরাধের দায়িত্ব আরোপ করে।

গুলশান থানা-র অপারেশনস পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান স্ট্রিমকে জানিয়ে বলেন, রডের আঘাতে নিহতের ঘটনার তদন্ত বর্তমানে চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক আইন অনুসারে, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ও অযথা ঝুঁকি সৃষ্টি করা অপরাধমূলক গফিলতি হিসেবে গণ্য হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শাস্তি পেতে পারেন। আদালতে মামলাটি উপস্থাপনের পর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের প্রমাণ স্থাপিত হলে তারা দায়ী ঘোষিত হতে পারেন।

অধিক তদন্তের পর, গুলশান থানা-র তদন্তকারী দল রডের উৎপত্তি, রডের ধরন, এবং নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করবে। এছাড়া, ভবনের নির্মাণ অনুমোদন, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা সংস্থার নথিপত্র এবং কাজের সময়সূচি পর্যালোচনা করা হবে।

মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, গুলশান থানা-র তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক প্রমাণাদি গৃহীত হয়ে গৃহস্থ আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বৈধতা নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।

এই ঘটনার পর, গুলশান এলাকার অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নির্মাণ সংস্থাগুলোকে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে এবং কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, গুলশানে রড পতনের ফলে একজন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং তার শ্বশুরের দায়ের মাধ্যমে কনকর্ড গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায়, আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments