ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়েজুল করিম আজ বিকেলে বরিশালের বকরগঞ্জ পৌরসভার এলাকায় অনুষ্ঠিত রাস্তা সমাবেশে ভোটারদের কাছে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভের পর ১৩ তারিখ থেকে ভোটাররা দরজা খুলে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে এমন শর্তে ভোটের আহ্বান জানান।
সমাবেশটি বকরগঞ্জ সদর রোডে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে প্রার্থীর কথা শোনার জন্য একত্রিত হয়। মঞ্চে উঠে তিনি উপস্থিতদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
মুফতি ফয়েজুল করিমের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল, “Elect me on February 12, and from 13th, you can sleep peacefully keeping your doors open.” এই বক্তব্যে তিনি ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের কেন্দ্রীয় বার্তা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বললেন, নির্বাচিত হলে তার এলাকায় কোনো মিথ্যা মামলা দায়ের হবে না এবং কেউই দমন বা হয়রানির শিকার হবে না। এই প্রতিশ্রুতি তার সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে, কারণ স্থানীয় স্তরে অবৈধ মামলার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।
অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিরোধিতা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “Not a single taka from public will be misappropriated.” এর মাধ্যমে তিনি পাবলিক তহবিলের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছেন। তিনি কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কথা উল্লেখ করে ধর্মীয় নীতি ও আধুনিক শাসনব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সমাবেশের আগে একই দিনে বকরগঞ্জ সদর রোডে একটি সমান ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হ্যান্ড ফ্যান’ প্রতীককে সমর্থন জানানো হয়। এই প্রতীকটি পার্টির ঐতিহ্যবাহী চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সমাবেশে উপস্থিতদের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সমাবেশে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম আল আমিন, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের যৌথ সচিব ফয়েজুল ইসলাম এবং অন্যান্য স্থানীয় পার্টি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রার্থীর বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং পার্টির সংগঠনের শক্তি প্রদর্শন করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের সরাসরি সমাবেশ এবং স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বকরগঞ্জের মতো গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবি শক্তিশালী হলে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বাড়বে।
প্রার্থী মুফতি ফয়েজুল করিমের এই ক্যাম্পেইন র্যালি নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি ভোটারদের কাছে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ভবিষ্যতে পার্টির নীতি বাস্তবায়নের জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছেন। ভোটের দিন পর্যন্ত তার ক্যাম্পেইন কেমনভাবে এগোবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।



