রংপুর‑৩ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের, শনিবার সন্ধ্যায় রংপুরের সেন্ট্রাল রোডে জাতীয় পার্টি অফিসে সাংবাদিকদের সামনে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার দল যখন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছ থেকে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করে, তখন তাকে ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
কাদের উল্লেখ করেন, জামাত, বিএনপি ও ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি সহ অন্যান্য দলগুলোও আওয়ামী লীগ ভোটের সন্ধান করে, তবে জাতীয় পার্টি যখন একই কাজ করে তখন তাকে অপরাধী ও সহযোগী হিসেবে লেবেল করা হয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক বৈষম্য হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সমান সুযোগের অভাবের অভিযোগ করেন।
মিটিং শেষ হওয়ার পর কাদের সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি চৌরাস্তা, প্রেস ক্লাব এলাকা, ওয়ালটন চৌরাস্তা এবং গ্র্যান্ড হোটেল চৌরাস্তা সহ বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন এবং সমর্থন আহ্বান করেন।
কাদেরের মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটদানের অধিকার সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বে কোনো উদাহরণ নেই যেখানে মানুষকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তবু রংপুরে সমর্থকদের বলা হচ্ছে তারা জাতীয় পার্টির জন্য ভোট দিতে পারবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তাদের কী অপরাধ হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জামাত, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকার একসাথে দেশের শাসন পরিচালনা করছে, ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না। এই যৌথ শাসনকে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
কাদের জানান, জাতীয় পার্টি ‘আওয়ামী লীগের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনে রক্তক্ষরণ স্বীকার করতে প্রস্তুত, তবে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
আসন্ন রেফারেন্ডাম নিয়ে কাদেরের উদ্বেগ প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হুমকি ও অপমানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এবং ‘হ্যাঁ’ না ভোট দিলে তাদেরকে স্বৈরাচারীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কাদের রেফারেন্ডামকে সংবিধানবিরুদ্ধ, অবৈধ ও অনধিকারিক বলে সমালোচনা করেন। তিনি সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং জনতহবিলের ব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, যা তিনি রেফারেন্ডাম পরিচালনার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, কাদেরের বক্তব্য রংপুরে জাতীয় পার্টির সমর্থন জোরদার করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য না থাকলেও, রেফারেন্ডামের বৈধতা রক্ষা করার জন্য প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক নির্বাচনী পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং রেফারেন্ডামের ফলাফল ও বৈধতা নিয়ে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



