রবিবার চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঘোষণা করেন, যদি দল সরকার গঠন করে তবে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দেশের বৃহত্তম বন্দরশহরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরেন এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শাসনকালে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তবে সেই সময়ের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই প্রকল্পের সূচনা করেন, কিন্তু সময়ের ঘাটতি এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
তারেক রহমান র্যালিতে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে এই দাবিটি করে আসছে। তিনি বলেন, পূর্বের শাসনকালে নেওয়া উদ্যোগের পরেও গত পনেরো বছরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে শহরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
বিএনপি নেতার মতে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার মাধ্যমে শুধু স্থানীয় জনগণ নয়, সমগ্র দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উন্নয়ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করবে, ফলে মানুষ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে।
চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক হৃদয় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আশ্বাস দেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে তবে চট্টগ্রামে ইপিজেড‑কেইপিজেডের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হবে, যা লক্ষ লক্ষ তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও র্যালিতে একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা যথেষ্ট নয়; বাস্তবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উন্নত করতে হবে। তার মতে, যথাযথ নীতি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃত হবে, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন থাকবে না।
এই ঘোষণাগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। চট্টগ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এই ধরনের অঞ্চলভিত্তিক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোভাব গঠনে সহায়ক হতে পারে।
যদি বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকীকরণ এবং লগিস্টিক্স সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজন হবে। এসব পদক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেন, অতীতের অমীমাংসিত পরিকল্পনা এবং বর্তমান অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম না করলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পরেও তা কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি কার্যকর নীতি, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কার প্রয়োজন। লগিস্টিক্স হাব, শিল্প পার্ক এবং রপ্তানি-নির্ভর সেক্টরের উন্নয়ন ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন।
সারসংক্ষেপে, র্যালিতে বিএনপি নেতাদের চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দেশের বাণিজ্যিক নীতি ও নির্বাচনী গতিবিধিতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক প্রোফাইল উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে তা সম্পন্ন করতে সুস্পষ্ট কৌশল ও সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



