লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে ২৫ জানুয়ারি রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সেশনের শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের সুযোগ দিলেন, তবে যশোরে ঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুর মৃত্যু নিয়ে তার প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলায় এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়নি, ফলে বিষয়টি জনমতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ব্রিফিংটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। সেশন শেষে উপদেষ্টা উপস্থিত সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করেন, “কোনো প্রশ্ন আছে কি?” এ মুহূর্তে একজন সাংবাদিক যশোরের ঘটনার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন।
প্রশ্নের পর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে উত্তর দেন, “না, আমি কৃষি ছাড়া কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না।” তিনি কৃষি বিষয়ক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবেন বলে জোর দেন এবং অন্য বিষয়ের প্রশ্ন প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্য একজন সাংবাদিক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাতে তিনি পুনরায় বলেন, “না, আমি দায়বদ্ধ না। আজ আমি কৃষির জন্য ডেকেছি।” তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন।
প্রশ্নটি পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠে, তবে উপদেষ্টা আবারও জোর দিয়ে বলেন, “আমি কৃষি ছাড়া কিছু বলব না। আপনারা কৃষির ওপর প্রশ্ন করবেন। যেহেতু কৃষকদের সমস্যাগুলো আপনারা বলেন না, এগুলোই হলো সমস্যা।” এই মন্তব্যে তিনি কৃষক সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি বিষয়বস্তু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
সাক্ষাৎকারের ধারাবাহিকতায় তিনি একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, “কৃষির বিষয়ে প্রশ্ন করুন।” যখন আবার যশোরের ঘটনায় প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি তৎক্ষণাৎ সভা ত্যাগ করেন। তার এই পদক্ষেপটি উপস্থিত সাংবাদিক ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
উক্ত ঘটনার পর বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠন উপদেষ্টার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াকে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়ের ওপর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিরোধী দল ও কিছু আইনসভা সদস্য উপদেষ্টার এই আচরণকে সরকারী স্বচ্ছতার ঘাটতি হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আরও কঠোর জবাবদিহি চাওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় এখনও ব্রিফিংয়ের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি কৃষি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
সারসংক্ষেপে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সভা ত্যাগ করা তার দায়িত্বের সীমা নির্ধারণের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা সরকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ভবিষ্যতে যশোরের মামলার অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে আরও আলোচনা প্রত্যাশিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জনমত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে অব্যাহত থাকবে।



