20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদন অনুযায়ী সাবেক ডিএমপি কমিশনারের ২৩ কোটি সম্পদ জব্দ,...

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদন অনুযায়ী সাবেক ডিএমপি কমিশনারের ২৩ কোটি সম্পদ জব্দ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর প্রাক্তন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তার সঙ্গে আটজনের নামের ওপর প্রায় ২৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ আজ (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে দেওয়া হয়। একই সময়ে আছাদুজ্জামান মিয়া, তার স্ত্রী আফরোজা জামান এবং তিন সন্তানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) সহকারী পরিচালক আলিয়াজ হোসেনের দাখিল করা দুটি পৃথক আবেদন আদালতে শোনা হয়। হোসেনের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সন্দেহে তিনজনের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তদের সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর রোধের জন্য জব্দের আদেশ প্রয়োজন, না হলে বিচার শেষে রাষ্ট্রের অনুকূলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া, অভিযুক্তদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালতকে অবহিত করা হয়।

আদালত জবাবদিহি করে উল্লেখ করেছে যে, জব্দকৃত সম্পদের মোট মূল্য ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকা। এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে গুলশানের জোয়ার সাহারা মৌজায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয়তলা ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে দুটি ফ্ল্যাট, আফতাবনগরে ছয় কাঠা জমি এবং পূর্বাচলে একটি প্লট। তদুপরি, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুরে তাদের নামে নিবন্ধিত জমির সন্ধান পাওয়া গেছে।

সম্পদ জব্দের আদেশের তালিকায় আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালক হাফিজুর রহমান এবং দুই শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা অন্তর্ভুক্ত। তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কেবল আছাদুজ্জামান মিয়া, তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে প্রযোজ্য।

দুদক আদালতে জানিয়েছে যে, সম্পদ জব্দের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং কোনো অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর রোধে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত টিমের কাজ চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও সম্পদ সনাক্তকরণ এবং জব্দের সম্ভাবনা রয়েছে।

আদালতের সহকারী রিয়াজ হোসেন এই আদেশের বৈধতা নিশ্চিত করে বলেছেন যে, জব্দের নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আইনি শাস্তি আরোপিত হবে। এছাড়া, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের পর, দুদক আরও জানিয়েছে যে, আছাদুজ্জামান মিয়া এবং তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সম্পদ লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা থামানো হবে। তদন্তের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত সম্পদ জব্দের তথ্য আদালতের পরবর্তী শুনানিতে উপস্থাপন করা হবে।

সাবেক ডিএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায়, দুদক ও আদালত উভয়ই জোর দিয়েছে যে, দুর্নীতি বিরোধী আইন প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না এবং সম্পদ জব্দের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে, দুদক আরও তদন্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সকল সম্পদ সঠিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা যায় এবং দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments