চ্যাম্পিয়নশিপের ১৪তম স্থানে বসে থাকা লেস্টার সিটি কোচ মার্টি সিফুয়েন্টেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবের বোর্ডে জরুরি আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে। শনিবার কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে অক্সফোর্ড ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ঘরোয়া পরাজয় দলের অবস্থান আরও নিকটবর্তী করেছে। ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রবিবারের সভায় কোচের পদচ্যুতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
সিফুয়েন্টেসের অধীনে দল কেবল একবারই গত পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছে, আর অক্সফোর্ডের কাছে হীনমন্য হোম হার তাদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করেছে। এই পরাজয় পরবর্তী ম্যাচে দলকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলেছে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ কমে গেছে। ফলস্বরূপ, ভক্তদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের স্রোত বেড়েছে।
কোচকে গত গ্রীষ্মে তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। তবে দুই মৌসুমের কিউপিআরের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও, লেস্টার সিটি এখনো প্রচারাভিযানের শীর্ষে পৌঁছাতে পারেনি। প্রচারাভিযানমূলক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দলকে কঠোর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মালিক আইয়াওয়াট ‘টপ’ শ্রীভদ্ধানাপ্রভা সরাসরি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ভক্তরা কোচ এবং ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চিৎকার তুলেছিল। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবতরণের পর ভক্তদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এই অবস্থা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও মালিকানার প্রতি সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিরেক্টর অফ ফুটবল জোন রাডকিনের কাজও তীব্র সমালোচনার মুখে। তার নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিক ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিফুয়েন্টেস এই পরাজয়ের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোচ এবং ব্যক্তিগতভাবে দুজনের জন্যই অস্বস্তিকর। তিনি স্বীকার করেছেন যে ফলাফলই ফুটবলের মূল মাপকাঠি, এবং ভক্তদের অসন্তোষের কারণ তিনি বুঝতে পারছেন। তবু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোচ হিসেবে তিনি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্বীকার করবেন।
লেস্টার সিটি বর্তমানে লাভজনকতা ও টেকসইতা নিয়মের অধীনে কঠোর আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে। এই মৌসুমে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে পয়েন্ট কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দলটি ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেবল ঋণাত্মক খেলোয়াড়দের সই করতে পারবে, যা শক্তি সংযোজনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।
লিগে ২৩টি ম্যাচে কোনো শূন্য গোলের রক্ষা না করা দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে। রক্ষার দুর্বলতা এবং আক্রমণাত্মক অস্থিরতা দলকে শীর্ষস্থান থেকে দূরে রাখছে। পরবর্তী সপ্তাহে চ্যালটনকে ঘরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হওয়া সত্ত্বেও, কোচের চাকরি ঝুঁকিতে থাকা অবস্থায় দলকে ত্বরিত পরিবর্তন প্রয়োজন।



