সান্ডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে মধ্যরাতের সেকশনে সম্প্রতি প্রদর্শিত ‘Undertone’ হরর জঁরের নতুন কাজ, যার পরিচালনা ও রচনা প্রথমবারের মতো ইয়ান টুয়াসন করেছেন। নিনা কিরি, অ্যাডাম ডি‑মার্কো, মিশেল ডুকে, কানা লিন বাস্টিডাস এবং জেফ ইউং প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবির সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা তেইশ মিনিট, এবং এটি ফ্যান্টাসিয়া ফেস্টিভ্যালে গত গ্রীষ্মে প্রথম দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছিল।
‘Undertone’ এর কাহিনী কানাডার এক মধ্যবয়সী নারীর চারপাশে ঘোরে, যার নাম ইভি। ইভি একা তার বাড়িতে বসবাস করেন, যেখানে তার মা শোয়ায় শোয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শয্যাশয় থেকে শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছেন। মায়ের অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় ইভি বাড়ির একাকীত্বে ডুবে যান, আর তার একমাত্র সংযোগ হল তার পডকাস্ট সঙ্গী জাস্টিনের সঙ্গে রেকর্ড করা রাত্রিকালীন অনুষ্ঠান।
ইভি এবং জাস্টিনের পডকাস্টের নাম ‘দ্য আন্ডারটোন’। এই অনুষ্ঠানটি অদ্ভুত ও অশুভ বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে ভয়ঙ্কর ইন্টারনেট মিম, অদ্ভুত ভিডিও ক্লিপ এবং অজানা রহস্যের আলোচনা করা হয়। পডকাস্টের মাধ্যমে ইভি তার একাকী জীবনের কিছুটা স্বস্তি পায়, তবে একই সঙ্গে অন্ধকারের সঙ্গে তার সংযোগ আরও গভীর হয়। মায়ের অবস্থা ও পডকাস্টের বিষয়বস্তু একে অপরকে প্রভাবিত করে, ফলে গল্পে ধীরে ধীরে ভয় ও দুঃখের মিশ্রণ দেখা যায়।
চিত্রনাট্যটি গম্ভীর টোনে গড়ে উঠেছে, যেখানে অন্ধকারময় পরিবেশ ও অতিরিক্ত রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের দৃশ্যগুলো প্রায়ই হেরেডিটারি চলচ্চিত্রের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, বিশেষ করে শোক ও দুঃখকে ভয়াবহতার সঙ্গে মিশ্রিত করার পদ্ধতি। ইয়ান টুয়াসনের কাজটি হেরেডিটারির প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে, তবে তা নিজস্ব স্বতন্ত্রতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন।
হেরেডিটারি ২০১৮ সালে প্রকাশের পর হরর জঁরে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিল, যেখানে শোকের গভীরতা ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে ভয়াবহতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর পর থেকে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতা একই ধাঁচের শৈলী অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে, তবে বেশিরভাগই মূলত্বের ঘাটতি ও অতিরিক্ত কনসেপ্টে আটকে গেছে। এই প্রবণতার সর্বোচ্চ নিম্নবিন্দু হিসেবে গত অক্টোবর মাসে ‘শেলবি ওকস’ নামের চলচ্চিত্রটি উল্লেখ করা হয়, যা ব্লেয়ার উইচ‑এর ফাউন্ড-ফুটেজ শৈলী থেকে হেরেডিটারির নকল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
‘Undertone’ এই ধারার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে হেরেডিটারির ছায়া স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। চলচ্চিত্রের গম্ভীর পরিবেশ ও অতিরিক্ত রূপক ব্যবহার দর্শকদের জন্য কিছুটা ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে, এবং মূল গল্পের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও কিছু দৃশ্যে ভয়াবহতার সঠিক ছোঁয়া রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি মূলত্বের অভাবের কারণে সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা পেয়েছে।
চলচ্চিত্রের নির্মাণে ব্যবহৃত সাউন্ড ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টগুলো কিছুটা প্রশংসনীয় হলেও, সেগুলো একা ছবির সামগ্রিক প্রভাব বাড়াতে যথেষ্ট নয়। ইভি ও তার মায়ের সম্পর্ক, পডকাস্টের বিষয়বস্তু এবং অন্ধকারের সঙ্গে তার মানসিক সংযোগের বর্ণনা যথেষ্ট গভীরতা না পেয়ে তুচ্ছ মনে হয়। ফলে দর্শকরা চলচ্চিত্রের গতি ও টোনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে কঠিন বোধ করে।
সারসংক্ষেপে, ‘Undertone’ হেরেডিটারির ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি হরর চলচ্চিত্র, যা মূলত্বের ঘাটতি ও অতিরিক্ত কনসেপ্টের কারণে সমালোচকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা পেয়েছে। যদিও কিছু দৃশ্যে ভয়াবহতার সঠিক ছোঁয়া রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি হেরেডিটারির স্বতন্ত্রতা ও গভীরতাকে পুনরায় তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সান্ডান্সে প্রদর্শিত এই কাজটি হরর জঁরের বর্তমান প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



