বিগ ব্যাশের পঞ্চদশ সিজনের চূড়ান্ত ম্যাচটি রবিবার সিডনির অপ্টাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। পার্থ স্কর্চার্স ১৩২ রান লক্ষ্য করে শিকড় গড়ে তুলতে গিয়ে ১৫ বল বাকি রেখে ৬ উইকেটের পার্থক্যে সিডনি সিক্সার্সকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা সিক্সার্সের শুরুর ওভারগুলোই অস্থিরতা দেখায়। ড্যানিয়েল হিউজের দ্রুত আউট প্রথম ওভারের শেষের দিকে দলকে প্রাথমিক শক দেয়, যা পরবর্তী গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর স্টিভেন স্মিথের ওপর অ্যারন হার্ডি এলবিডব্লিউ করে, ফলে স্কোরে ত্বরান্বিত পতন আসে। জশ ফিলিপি তৎক্ষণাৎ পেইনের ক্যাচে আউট হয়ে দলকে আরও এক ধাপ পিছিয়ে দেয়।
ডেভিড পেইন তার বামহাতি গতি দিয়ে পরবর্তী ওভারে মোইসেস হেনরিকেস ও ল্যাচলান শকে দু’জনকে একসাথে ধরা দেয়। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের ফলে সিক্সার্সের মাঝারি অংশে গতি হ্রাস পায় এবং স্কোরে বড় ফাঁক তৈরি হয়।
মার্শের প্রথম ওভারে একটি ছক্কা দলকে সামান্য স্বস্তি দেয়, তবে ফিন অ্যালেনের দ্রুত রান সংগ্রহে দলটি ওভারপ্রতি প্রায় দশ রান করে গতি বাড়ায়। অ্যালেনের আক্রমণাত্মক খেলা সিক্সার্সের স্কোরে ত্বরান্বিত গতি যোগায়।
নবম ওভারে অ্যালেনের আউট হওয়ায় ৮০ রানের শক্তিশালী শুরুর অংশ ভেঙে যায়। এরপর স্কোরের গতি ধীর হয়ে যায় এবং সিক্সার্সের শেষের ওভারগুলোতে রক্ষণশীলতা দেখা যায়।
পার্থ স্কর্চার্সের ওপেনার মার্শ ৪৪ রান করে, যার মধ্যে দুইটি ছক্কা ও চারটি চারের মাধ্যমে দলকে দৃঢ় ভিত্তি দেয়। তার পরের ব্যাটসম্যানরা মাঝারি স্কোর যোগাতে পারলেও কোনো শতকোটি না করে।
ডেভিড পেইনের বোলিং পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তিনি চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। তার সমকক্ষ জাই রিচার্ডসনও চার ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনটি উইকেটের সমান অবদান রাখে।
পার্থ স্কর্চার্স ১৩২ রানে লক্ষ্য পৌঁছাতে ১৬.৫ ওভারে ৪ উইকেটের সঙ্গে চূড়ান্ত শট নেয়, ফলে ১৫ বল বাকি থাকে। এই ফলাফল দলকে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসিয়ে দেয়।
এই জয় পার্থ স্কর্চার্সের ষষ্ঠ শিরোপা, যা তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বাধিক শিরোপা জেতা দল করে তুলেছে। সিক্সার্সের বিপক্ষে ছয়টি ফাইনালে চারবার জয়লাভের রেকর্ডও তাদের শক্তি প্রমাণ করে।
বিগ ব্যাশের চূড়ান্ত ম্যাচের পর পার্থ স্কর্চার্সের খেলোয়াড় ও কোচরা ভক্তদের সঙ্গে উদযাপন করে, এবং দলটি পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করে।



