পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ২৫ জানুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে একত্রিত হবে। এই বৈঠকে দলীয় কৌশল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য বয়কটের বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই মিটিংয়ের প্রধান হোস্ট হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
পিসিবি সম্প্রতি জানিয়েছে যে, পাকিস্তান দল বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে যদি বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়। নাকভি ২৪ জানুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে নেওয়া হবে এবং প্রধানমন্ত্রী ফিরে আসার পরই তা প্রকাশ করা হবে।
নাকভি আরও বলেন, বাংলাদেশকে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) অন্যায় করেছে। তিনি আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে একই কথা তুলে ধরেছেন এবং দ্বিমুখী নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেখানে এক দেশের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ না করে অন্য দেশের প্রতি ভিন্নভাবে আচরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না।
আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়। গত বুধবার আইসিসি সভা শেষে বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক হয়, যেখানে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান।
পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় এবং স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে বেছে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান বয়কটের সম্ভাবনা বাড়ে, কারণ তারা বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অন্যায় বলে বিবেচনা করছে।
পিসিবি প্রধানের বৈঠকটি শুধুমাত্র কৌশলগত বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দিকেও গুরুত্ব দেবে। নাকভি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সরকার তার নির্দেশনা না পেলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় এবং আইসিসির সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করা হবে না।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মূল কারণ ছিল কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকি, যা মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল বাদ দেওয়ায় স্পষ্ট হয়। এই হুমকি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইসিসি-বাংলাদেশ বিরোধের মূল বিষয় হল আইসিসির ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। নাকভি আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং এক দেশের প্রতি অন্যায় আচরণকে সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, আইসিসি কোনো দেশের স্বার্থে পক্ষপাতিত্ব করে না।
পিসিবি প্রধানের বৈঠকের সময়সূচি এবং এজেন্ডা এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি, তবে বিশ্বকাপের স্ট্র্যাটেজি, টিমের প্রস্তুতি এবং বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাকভি উল্লেখ করেন, সরকারী নির্দেশনা না পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, দলটি ভারতে না গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে। আইসিসি এই সিদ্ধান্তের পর স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে।
এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জটিলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে স্পষ্ট করে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয়েরই নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে, যা আইসিসির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। পিসিবি প্রধানের বৈঠক এবং সম্ভাব্য বয়কটের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



