যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি ভ্রমণ সতর্কতা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের নাগরিকদেরকে আসন্ন নির্বাচন পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সতর্কতায় বলা হয়েছে যে, যাত্রীরা সম্ভাব্য প্রতিবাদ, সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা অস্থায়ী সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারেন। তাই যুক্তরাজ্য নাগরিকদেরকে স্থানীয় সংবাদ অনুসরণ করতে, জরুরি অবস্থায় দূতাবাসে যোগাযোগ রাখতে এবং ভ্রমণের আগে তাদের অবস্থান নিবন্ধন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে প্রচারাভিযান চালু করেছে, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনমত গঠনে তীব্র বিতর্ক দেখা দিচ্ছে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রতিবাদ, রেল ও সড়ক বন্ধ, এবং কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা তুলে ধরে, বিশেষ করে শহর কেন্দ্র ও নির্বাচনী ক্যাম্পেইন এলাকায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এছাড়াও উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের সময় অযৌক্তিক গ্রেপ্তার, সম্পত্তি জব্দ বা কাস্টমসের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি থাকতে পারে, যা বিদেশি নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দূতাবাসের কনসুলার সহায়তা সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সতর্কতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষায় সহায়ক হবে।
বাণিজ্যিক সংস্থা ও ভ্রমণ এজেন্সিগুলো ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসা পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে। কিছু সংস্থা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বুকিং বাতিল করেছে এবং বিকল্প গন্তব্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের উচ্চ কমিশন ঢাকা-তে অবস্থিত দূতাবাসের কর্মকর্তারা নাগরিকদেরকে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করতে, জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনে কনসুলার সহায়তা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। দূতাবাসের হটলাইন এবং ইমেল ঠিকানা সতর্কতা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে এই সতর্কতা পর্যালোচনা করা হবে। যুক্তরাজ্য সরকার উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ভ্রমণ নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্য নিকটবর্তী নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা নাগরিকদেরকে সতর্কতা প্রদান করেছে, যাতে তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।



