ইলেকশন কমিশন (ইসিস) আজ ঢাকার আগারগাঁও সদর দফতরে জানিয়েছে যে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন সেবা দুই মাসের বেশি সময়ের বিরতির পর আবার চালু হয়েছে। সেবা পুনরায় শুরু হওয়ার কারণ হল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা এবং বিদেশে ও দেশের ভিতরে ডাক ভোটের নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন হওয়া। এই পদক্ষেপটি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত।
ইসিসের এনআইডি শাখার প্রধান, এএসএম হুমায়ূন কবিরের মতে, নভেম্বর ২৪ তারিখে এনআইডি সংশোধন সেবা স্থগিত করা হয়েছিল যাতে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের সময় তথ্যের গণ্ডগোল বা পরিবর্তন রোধ করা যায়। তিনি জানান, এই সময়ে বিদেশে ভোট (OCV) এবং দেশের ভিতরে ডাক ভোট (IPCV) নিবন্ধনের কাজ তীব্রভাবে চালু ছিল, যা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক সেবা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
সেবার বন্ধের সময়কাল প্রায় দুই মাস দুই দিন স্থায়ী ছিল। এই সময়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সমস্ত সংশোধনী আবেদন স্থগিত করা হয়েছিল, যাতে তালিকায় কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন না ঘটে। তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পরই ইসিস দ্রুতই এনআইডি সংশোধন সেবা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে নাগরিকদের পরিচয়পত্র সংশোধনের প্রয়োজন মেটানো যায়।
হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেন, “আমাদের ভোটার তালিকা এখন সম্পূর্ণ হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনআইডি সংশোধন সেবা পুনরায় শুরু করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিদেশে ভোট এবং দেশের ভিতরে ডাক ভোটের নিবন্ধন কাজ এই সময়ে প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল; এখন সেগুলো শেষ হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক সেবায় ফিরে এসেছি।” এই বক্তব্য ইসিসের অফিসিয়াল ঘোষণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই সেবার পুনরায় চালু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলো দাবি করে যে, এনআইডি সংশোধন সেবা পুনরায় শুরু হলে ভোটারদের পরিচয় সংশোধনের সুযোগ বাড়বে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। তারা উল্লেখ করে, “যদি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরেও সংশোধন সেবা বন্ধ থাকে, তবে তা ভোটারদের অধিকার সীমাবদ্ধ করতে পারে।” তবে কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত দেন যে, সেবার পুনরায় শুরু হওয়া ইসিসের সময়মত কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করবে।
ইসিসের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর, ভোটারদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ করবে। এছাড়া, ডাক ভোটের নিবন্ধন কাজের সমাপ্তি ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত ভোটদান বিকল্প সরবরাহের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামকে লক্ষ্য করে ইসিসের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, “এনআইডি সংশোধন সেবা পুনরায় চালু হওয়া ভোটারদের পরিচয় সংশোধনের সুযোগ দেয়, যা ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।” এছাড়া, ডাক ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে।
সারসংক্ষেপে, ইসিসের এনআইডি সংশোধন সেবা দুই মাসের বিরতির পর পুনরায় চালু হওয়া ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং ডাক ভোটের নিবন্ধন সমাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এই সেবা পুনরায় শুরু হওয়া নাগরিকদের পরিচয় সংশোধনের সুবিধা দেবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য ইসিসের এই ধরণের সময়মত পদক্ষেপের গুরুত্ব অপরিসীম।



