ইন্টারিম সরকার জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় চ্যার্টার রেফারেন্ডামের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। রেফারেন্ডামটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের সংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্য রাখে। সরকার এই সমর্থনকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করছে, আর বিরোধীরা এটিকে নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করছে।
ইন্টারিম সরকার ২০২২ সালের শেষের দিকে জনগণের বৃহৎ প্রতিবাদে গঠিত হয়, যখন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলন তীব্রতর হয়। ঐ সময়ে বিদ্যমান সরকারকে অপসারণের দাবি জানিয়ে একাধিক শহরে প্রতিবাদে সশস্ত্র গৃহবন্দি ও রাজনৈতিক নেতারা গ্রেপ্তার হন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সংবিধানিক ধারা ব্যবহার না করে, জনগণের সরাসরি ক্ষমতা থেকে নতুন প্রশাসন গৃহীত হয়।
এই প্রশাসনের বৈধতা সংবিধানিক ধারা নয়, বরং জনগণের সমষ্টিগত ইচ্ছা থেকে উদ্ভূত। সরকার দাবি করে যে, তার ক্ষমতা জনগণের সমর্থন ও তাদের চাহিদা পূরণের দায়িত্ব থেকে আসে, যা স্বচ্ছন্দে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে একটি বিশেষ ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত।
ইন্টারিম সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, যাতে ভবিষ্যতে আরও জবাবদিহি ভিত্তিক শাসন নিশ্চিত হয়। জাতীয় চ্যার্টার রেফারেন্ডামকে এই পুনর্গঠনের মূল উপকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সরাসরি জনগণের হাতে উপস্থাপিত হবে।
বিরোধীরা যুক্তি দেন যে, সরকার যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালায়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গততা ক্ষুণ্ন করবে এবং সরকারী পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠবে। তারা আরও বলেন যে, এই ধরনের সমর্থন ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
তবে সরকার এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে, দাবি করে যে সমর্থন প্রকাশ করা এবং ভোটারকে বাধ্য করা এক নয়। সরকার জোর দিয়ে বলে যে, রেফারেন্ডামের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা বাধ্যতামূলক হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে।
অধিকন্তু, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘না’ ভোটের পক্ষে স্বাধীনভাবে প্রচার চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোনো দল বা সংগঠনকে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে বাধা দেওয়া হয়নি, এবং ভোটারদের পছন্দের স্বাধীনতা সংরক্ষিত রয়েছে।
যদি রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হয়, তবে তা সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক বৈধতা প্রদান করবে, যা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তি সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলাফলও বাধ্যতামূলক হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনকে সরকার যদি সফলভাবে প্রচার করে, তবে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী চক্রে সরকারী নীতি ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সম্ভাবনা রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে পুনরায় সাজাতে পারে এবং রেফারেন্ডামের পরবর্তী আলোচনায় নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে। উভয় ফলাফলই দেশের সংবিধানিক সংস্কারের পথে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে রেফারেন্ডামের প্রচারাভিযান তীব্র হবে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বিভিন্ন মিডিয়া ও জনসাধারণের সমাবেশে অংশ নেবে। রেফারেন্ডাম শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।



