28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধজুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যান, স্ত্রী‑সন্তানের দেহ যশোর কারাগারে পৌঁছেছে

জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যান, স্ত্রী‑সন্তানের দেহ যশোর কারাগারে পৌঁছেছে

বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জুয়েল হাসান সাদ্দামের বাড়ি থেকে গত শুক্রবার দুপুরে তার মৃত স্ত্রী ও ৯ মাসের পুত্রের দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহগুলো পরে স্বজনের হাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে, জুয়েলকে শেষবারের মতো তার পরিবারকে দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম, যিনি ছাত্রলীগের একজন নেতারূপে পরিচিত, দীর্ঘকাল জেলায় বন্দি ছিলেন। তার স্ত্রীর মৃত্যুর আগে থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন, ফলে তিনি নিজের সন্তানকে কখনো দেখেননি। স্বজনের দাবি যে, দেহের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবারকে প্যারোলের আবেদন যশোরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে যশোরের কারা কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে কোনো আবেদনপত্র পৌঁছায়নি। এই পারস্পরিক বিরোধের ফলে প্যারোলের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্যারোলের অনুমোদন নীতিমালা অনুসারে, জেলা প্রশাসক—যিনি একই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বও পালন করেন—বন্দীর প্যারোল মঞ্জুর করার ক্ষমতা রাখেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃত করা হয়। নীতিমালায় উল্লেখ আছে, কোনো বন্দী যদি একই জেলার কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ বা সাব-জেলে আটক থাকে, তবে ওই জেলার কোনো স্থানে প্যারোল অনুমোদন করা সম্ভব। অন্যদিকে, যদি বন্দী অন্য জেলার কারাগারে থাকে, তবে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে অনুমোদন করা হয়।

প্যারোলের জন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নীতিমালায় উল্লেখ আছে, ভিআইপি, সব শ্রেণির কায়েদি, অথবা তাদের নিকটতম আত্মীয়—যেমন মা‑বাবা, শ্বশুর‑শ্বাশুড়ি, স্বামী‑স্ত্রী, সন্তান‑সন্ততি—যদি জরুরি প্রয়োজন হয়, তবে প্যারোলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে আবেদনটি যথাযথভাবে প্রক্রিয়াকরণ হয়নি বলে বলা হচ্ছে।

স্বজনের মতে, প্যারোলের আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো সাড়া না পেয়ে তারা সরাসরি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেহের জানাজা সম্পন্ন করেন। জুয়েল সাদ্দামকে শেষবারের মতো তার স্ত্রীর মুখ ও পুত্রের দেহ দেখার সুযোগ দেয়া হয়, তবে তিনি জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট জেলা ও কারা কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের ত্রুটি স্পষ্ট হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন এবং যশোরের কারা দুজনই নিজেদের দায়িত্বের দিক থেকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সমাধান দেখা যায়নি।

আইনি দিক থেকে, জুয়েল সাদ্দামের প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যানের বৈধতা ও নীতিমালার প্রয়োগের সঠিকতা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আদালতে বিষয়টি উত্থাপিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর, জুয়েল সাদ্দামের পরিবার এবং ছাত্রলীগের অন্যান্য সদস্যরা প্যারোল নীতিমালার পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োগে স্বচ্ছতা দাবি করছেন। তারা উল্লেখ করছেন, জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে প্যারোলের অনুমতি না দিলে মানবিক দিক থেকে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।

অধিকন্তু, জেলায় বন্দিদের পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্যারোলের আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর পুনর্গঠন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে রয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই বিষয়টি সমাধান হবে এবং প্যারোল নীতিমালার সংশোধন হবে কিনা, তা পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments